যে কারণে ছেংগারচর পৌরসভায় কার্যক্রমে স্থবিরতা

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৬ এএম

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভায় জনপ্রতিনিধি না থাকায় সেবাবঞ্চিত পৌরবাসী। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রজ্ঞাপনে দেশের সকল পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলরদের পদ থেকে অপসারণ করার পর থেকেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে পৌরবাসী।

গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পৌরসভায় মেয়র ও কাউন্সিলরদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২৬ সেপ্টেম্বর তাদেরকে পদ থেকে অপসারিত করে। এতে স্থবির হয়ে পড়ে পৌরসভার নাগরিক সেবা কার্যক্রম।

সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী, ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে জন্মনিবন্ধন সনদ, মৃত্যুসনদ, সনদ সংশোধন, নাগরিকত্ব সনদ, চারিত্রিক সনদ, উত্তরাধিকার (ওয়ারিশ) সনদ, ভূমিহীন সনদ, টিসিবি কার্ড, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতার সত্যায়িত সনদসহ বিভিন্ন সনদ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় থেকে বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র, অনাপত্তিপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকায় যাচাইকারী হিসেবে স্বাক্ষর দিতে হয় কাউন্সিলরকে। বর্তমানে এসব সেবা পেতে নানা রকম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে পৌরবাসী।

পৌর কার্যক্রম সচল রাখতে প্রশাসক নিয়োগের পাশাপাশি একাধিক সরকারি কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে এবং অধিকাংশ কর্মকর্তা না আসায় সেবা প্রদান ব্যাহত হচ্ছে।

বালুরচর গ্রামের মোহাম্মদ হোসেন জানান, সনদ প্রাপ্তির জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের (কাউন্সিলর) সুপারিশ নিতে হতো। কিন্তু বর্তমানে সুপারিশ করার লোক না থাকায় ভোগান্তির মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলছে পৌরবাসীর।বারআনী গ্রামের ছিদ্দিকুর রহমান জানান, জনপ্রতিনিধি না থাকায় প্রত্যেকটি কাজের জন্য অতিরিক্ত সময় ও খরচ হচ্ছে। জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের মতো জরুরি সেবাগুলোও সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে না।

ছেংগারচর পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শাহ সুফিয়ান খান জানান, তিনি অতিরিক্ত দায়িত্বে থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার একদিন পৌরসভায় আসেন। যতটুকু পারছেন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, পৌর প্রশাসক মাহমুদা কুলসুম মনি মাসিক সভা ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছাড়া নিয়মিত আসেন না। প্রয়োজনীয় স্বাক্ষরের জন্য উপজেলা কার্যালয়ে যেতে হয়।

এ বিষয়ে ছেংগারচর পৌরসভার প্রশাসক মাহমুদা কুলসুম মনি (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) বলেন, আমি উপজেলা প্রশাসক এবং পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি, পৌরসভায় আমার যাওয়া আসার বিষয়ে নাগরিক সেবা পাওয়া এবং না পাওয়ার কোন বিষয় নেই। কেউ সেবা না পেলে তাকে তার কাছে পাঠালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত