বাংলাদেশিদের সংহতি

ফ্রান্সে শ্রমিক অধিকার ও বৈধতার দাবিতে লক্ষাধিক মানুষের বিক্ষোভ

আপডেট : ০২ মে ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে প্যারিসসহ ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে শ্রমিক অধিকার ও বৈধ কাগজপত্রের দাবিতে বিক্ষোভ, মিছিল ও সংহতি কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এ কর্মসূচিতে  অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশি অভিবাসীরা। কাগজহীন অভিবাসীদের নিয়মিতকরণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং স্থায়ী বসবাসের নিশ্চয়তার দাবিতে ফরাসি শ্রমিক ও অভিবাসী সংগঠনগুলোর সঙ্গে কণ্ঠ মেলান তারা। মে দিবস উপলক্ষে প্যারিসের রাজপথে হাজারো শ্রমিক, শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মী, কাগজহীন অভিবাসী এবং বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা জড়ো হন। এবারের কর্মসূচিতে ন্যায্য মজুরি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, শ্রমিক অধিকার এবং অভিবাসীদের বৈধতার প্রশ্ন গুরুত্ব পায়।

ফ্রান্সজুড়ে আয়োজিত মে দিবসের সমাবেশ ও মিছিলে সরকারি হিসাবে প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার মানুষ অংশ নেন। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, এ সংখ্যা ৩ লাখ ছাড়িয়েছে। প্যারিসে ঐতিহ্যবাহী মিছিলটি রিপুবলিক চত্বর থেকে শুরু হয়ে নাসিওঁ চত্বর পর্যন্ত অগ্রসর হয়।

মিছিলে বাংলাদেশি অভিবাসীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল। বিশেষ করে খাবার সরবরাহ, রেস্তোরাঁ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নির্মাণ ও অন্যান্য সেবা খাতে কর্মরত বাংলাদেশিরা শ্রম অধিকার ও বৈধতার দাবিতে অংশ নেন। তাদের হাতে বিভিন্ন ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও স্লোগানে কাগজহীন অভিবাসীদের নিয়মিতকরণের দাবি তুলে ধরা হয়।

প্যারিসের পাশাপাশি মার্সেই, লিওঁ, তুলুজ ও লিলসহ বিভিন্ন শহরেও স্থানীয় শ্রমিক ও অভিবাসী সংগঠনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে কর্মসূচিতে যোগ দেন বাংলাদেশিরা। অংশগ্রহণকারীরা জানান, বৈধ কাগজপত্রের অনিশ্চয়তা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বহু অভিবাসী শ্রমিক কর্মক্ষেত্রে শোষণ ও অনিরাপত্তার মধ্যে রয়েছেন।

এদিনের কর্মসূচিতে ফ্রান্সের প্রধান শ্রমিক সংগঠন সিজেতে, সিএফদেতে, ফোর্স উভ্রিয়ের এবং সলিদেয়ার অংশ নেয়। পাশাপাশি অভিবাসী ও মানবাধিকারভিত্তিক সংগঠন লা সিমাদ, দ্রোয়া দ্যভঁ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিদেশি শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পরিচালনা করে। সংগঠনটি বিদেশি শ্রমিকদের জন্য স্থায়ী বসবাসের অনুমতি, প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাস এবং কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য বন্ধের দাবি জানায়।

পর্যবেক্ষকদের মতে, ফ্রান্সে মে দিবস এখন শুধু শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দিন নয়; বরং অভিবাসী অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে পরিণত হয়েছে।

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত