মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের হয়রানির অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)। সংগঠনটির মহাসচিব রিয়াজ আহমেদ খান বলেন, ভ্যাট নিয়ে বিরাট সমস্যা তৈরি হয়েছে। সমস্যায় পড়ে অনেকে ব্যবসা ছেড়ে দিতে চাচ্ছেন।
গতকাল শনিবার রাজধানীতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন। অনুষ্ঠানে বারভিডার সভাপতি আবদুল হক সংগঠনটির পক্ষ থেকে বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরেন। এ সময় সংগঠনটির অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
রিয়াজ আহমেদ বলেন, ভ্যাট আইন থাকলেও তার সঠিক প্রয়োগ হচ্ছে না। মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তারা নিজেদের মতো করে আইন প্রয়োগ করছেন, ফলে ব্যবসায়ীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। ভ্যাট নিয়ে সৃষ্ট সমস্যার কারণে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তিনি এনবিআর চেয়ারম্যান ও অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ব্যবসায়ীরা হয়রানিমুক্তভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন এবং সরকারের প্রয়োজনে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে পারেন।
বারভিডার সভাপতি বলেন, জ¦ালানি সাশ্রয়ী হাইব্রিড ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ওপর শুল্ক কমানো জরুরি। একই সঙ্গে গণপরিবহন হিসেবে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসের সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার এবং জাপান থেকে আমদানি করা রিকন্ডিশন্ড ইলেকট্রিক গাড়ির (ইভি) ওপর কর হ্রাসের দাবি জানান তিনি।
আবদুল হক বলেন, কর ছাড় দেওয়া হলে পরিবেশবান্ধব গাড়ির ব্যবহার বাড়বে, জ¦ালানি খরচ কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাপও হ্রাস পাবে। তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত সুবিধাগুলো বাস্তবায়ন করা হলে গাড়ির দাম মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার আওতায় থাকবে। ফলে বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে দেশে একটি মানসম্মত, নিরাপদ ও আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতেও তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বারভিডার সহসভাপতি হাবিবুর রহমান খান বলেন, চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের ভ্যাটসংক্রান্ত বিষয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের।