বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক

পুরোদমে ভিসা চালুর চিন্তা দিল্লির

আপডেট : ০৩ মে ২০২৬, ০৭:৪৮ এএম

বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্বিন্যস্ত করার দায়িত্ব দিয়ে একজন প্রবীণ রাজনীতিককে হাইকমিশনার হিসেবে পাঠাচ্ছে প্রতিবেশী ভারত। বর্তমানে বিজেপির এই নেতা, দীনেশ ত্রিবেদী, মিশন প্রধান হিসেবে ঢাকায় দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বাংলাদেশ থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে ভিসা পরিষেবা চালু করা হতে পারে।

দিল্লি থেকে প্রকাশিত দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস গতকাল শনিবার এক প্রতিবেদনে এ কথা বলেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ত্রিবেদী শিগগির ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন। এর পরপরই ভারত ভিসা পরিষেবা পূর্ণাঙ্গভাবে পুনরায় চালু করবে।

ভারতীয় সরকারি এক কর্মকর্তা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেছেন, বাংলাদেশ যেখানে সব নাগরিকের জন্য ভিসা পুনরায় চালু করেছে, সেখানে ভারত আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর লক্ষ্য স্থির করেছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতন এবং একই দিন তিনি ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর বাংলাদেশে কিছুটা অনিশ্চিত রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ভারতীয় মিশনগুলোয় ভিসা দেওয়া কয়েকদিন বন্ধ ছিল। এরপর চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে ইচ্ছুক এমন ব্যক্তিদের ভিসা দেওয়া আবার শুরু হয়।

গত বছর ডিসেম্বরে নিরাপত্তা ইস্যুতে নয়াদিল্লি, কলকাতা, আগরতলা, মুম্বাই ও চেন্নাইয়ে বাংলাদেশের মিশনগুলোয় ভিসা দেওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। তবে বর্তমানে এসব মিশনের সব ভিসাকেন্দ্র আবার পুরোদমে চালু করা হয়েছে।

নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহর উদ্ধৃতি দিয়ে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস প্রতিবেদনে বলেছে, গত বছর ডিসেম্বরে বাংলাদেশ মিশনের কয়েকটি কেন্দ্রে ভিসা কার্যক্রম স্থগিত করা হলেও ফেব্রুয়ারিতে তা পুনরায় চালু করা হয়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ভারত উচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ আবার শুরু করে। ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ও পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি যোগদান করেন। এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শেষকৃত্যে যোগ দিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ঢাকা সফর করেন। সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান দিল্লি সফর করেছেন। 

নয়াদিল্লির সরকারি সূত্র দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানায়, গত বছর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশে ভারতীয় মিশনগুলোয় ভিসা পরিষেবা মারাত্মকভাবে বিঘিœত হয়। তবে বর্তমানে মিশনগুলোয় চিকিৎসা ভিসার আবেদন বিবেচনা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ভারত ভ্রমণে ইচ্ছুক বাংলাদেশের নাগরিকদের ভিসা পরিষেবা বর্তমানে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের পূর্ববর্তী সক্ষমতার প্রায় ২০ শতাংশে চালু রয়েছে। এক্ষেত্রে চিকিৎসা ভিসাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

২০২৪ সালের আগস্টে ঢাকায় ক্ষমতায় পালাবদলের আগে ভারতীয় মিশনগুলো বছরে ১৫ থেকে ১৬ লাখ ভিসা ইস্যু করেছে।

তবে বাংলাদেশ থেকে ভিসা দেওয়া বাড়ানোর সম্ভাবনার বিষয়ে জানতে চাইলে, ঢাকায় ভারতীয় একজন কূটনীতিক দাবি করেন, ‘লোকবল কম থাকায়’ বাংলাদেশে অবস্থিত দেশটির মিশনগুলোয় ভিসা দেওয়া বাড়ানো যাচ্ছে না। তবে লোকবল বাড়ানো হলে ভিসা পরিষেবাও বাড়ানো হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত