সুদানের রাজধানী খার্তুমে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) এক ড্রোন হামলায় অন্তত পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। গত শনিবার দেশটির মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ব্যক্তিদের সহায়তাকারী স্বাধীন আইনি সংস্থা ‘ইমার্জেন্সি লয়ার্স’ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গত বছর সরকারি বাহিনী রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার পর খার্তুমে দীর্ঘদিন অপেক্ষাকৃত শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। তবে গত এক সপ্তাহের মধ্যে এটি দ্বিতীয় ড্রোন হামলার ঘটনা। সংস্থাটি এই হামলার জন্য আরএসএফ-কে সরাসরি দায়ী করে বলেছে, তারা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করেছে।
ইমার্জেন্সি লয়ার্স জানিয়েছে, বেসামরিক জনগণের ওপর ধারাবাহিক হামলার অংশ হিসেবেই এই ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই ড্রোন হামলায় প্রায় ৭০০ বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার খার্তুমের কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে জাবাল আউলিয়া এলাকার একটি হাসপাতালে ড্রোন হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও নিরাপত্তা বাহিনীর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, দীর্ঘ কয়েক মাস পর ওই এলাকায় এটিই ছিল প্রথম এ ধরনের হামলা।
গত বছর সুদানের সামরিক বাহিনী উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ মজবুত করার পর একটি পাল্টা অভিযান চালায়। ওই অভিযানে আধাসামরিক বাহিনীকে রাজধানী থেকে বিতাড়িত করা হয়। এরপর সামরিক সরকার খার্তুম অঞ্চলকে আরএসএফ-মুক্ত ঘোষণা করেছিল।
রাজধানী থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর আরএসএফ বর্তমানে পশ্চিম দারফুর অঞ্চলে তাদের শক্ত ঘাঁটি গাড়া এবং তেল সমৃদ্ধ এলাকাগুলো দখলের দিকে মনোনিবেশ করেছে। এদিকে ইথিওপিয়া সীমান্তবর্তী দক্ষিণ-পূর্ব ব্লু নাইল রাজ্যেও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে, যা দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের আশঙ্কা জাগিয়ে তুলেছে।
২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে সুদানের সামরিক বাহিনী ও তাদের সাবেক মিত্র আরএসএফের মধ্যে এই যুদ্ধ শুরু হয়। গত বছর আরএসএফ খার্তুমের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পানি অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে অসংখ্য ড্রোন হামলা চালিয়েছিল।
মাঝে কয়েক মাস পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকায় প্রায় ১৮ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ রাজধানীতে ফিরে এসেছেন এবং অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল শুরু হয়েছে। তবে শহরের বড় একটি অংশ এখনো বিদ্যুৎ ও মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত। জাতিসংঘের মতে, যুদ্ধের ফলে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং দেশের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।
সূত্র: আল-জাজিরা
