যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ হাইকোর্টে রিট

আপডেট : ০৫ মে ২০২৬, ০৭:৪৮ এএম

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তির (আরটিএ) বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে পররাষ্ট্র সচিব, অর্থ সচিব ও বাণিজ্য সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। গতকাল সোমবার হাইকোর্টের  সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মাইদুল ইসলাম পলকের পক্ষে জনস্বার্থে এ রিট আবেদনটি দাখিল করেন আরেক আইনজীবী সুবীর নন্দী দাস।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে (৯ ফেব্রুয়ারি) ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করে, যাতে ১৩১টি শর্ত বাংলাদেশকে মানতে হবে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রকে মানতে হবে ছয়টি শর্ত। এ নিয়ে রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। গণমাধ্যমে খবর এসেছে, চুক্তিটির কার্যকারিতা এখনো শুরু হয়নি। অন্যদিকে দুই দিন আগে বোয়িংয়ের ১৪টি বিমান কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির খবর আসে।

অ্যাডভোকেট সুবীর নন্দী দাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব এবং জনকল্যাণ রক্ষায় ব্যর্থতার পরিচয় দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য শতভাগ স্বার্থবিরোধী এই চুক্তি হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি দামে পণ্য কিনতে বাধ্য। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য নয়। উপরন্তু এই অসম চুক্তির কারণে তারা লাভবান হবে। আইনজীবী আরও বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী আন্তর্জাতিক চুক্তি করতে কিছু বিধি-বিধান মানতে হয়, যা এখানে ছিল না। ফলে বাংলাদেশের ওপর দায়বদ্ধতা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে করে প্রতিকূল শুল্ক ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বায়ত্তশাসন খর্ব হওয়া এবং দেশীয় শিল্প, কৃষি ও পরিবেশগত সুরক্ষার সমূহক্ষতির আশঙ্কা থাকবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ বাণিজ্যচুক্তিকে অযৌক্তিক, কাঠামোগতভাবে অসম এবং বাংলাদেশের স্বার্থপন্থি উল্লেখ করে রিট মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চুক্তির কার্যকরণ স্থগিত চাওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট একটি বেঞ্চের কার্যতালিকায় এলে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হবে বলে জানান অ্যাডভোকেট সুবীর নন্দী দাস।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত