কোরবানির ঈদ সামনে রেখে চামড়া খাতের ব্যবসায়ীদের ঋণ প্রদানে বড় ধরনের সুবিধা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগে এ খাতের ব্যবসায়ীরা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করে ঋণ পুনঃতফসিল করার পর নতুন ঋণ পেতেন। তবে এখন নতুন ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে এই বাধ্যবাধকতা সাময়িকভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত এক সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, চামড়া শিল্প দেশীয় কাঁচামালভিত্তিক একটি রপ্তানিমুখী খাত। জাতীয় প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও সাশ্রয় এবং মূল্য সংযোজনের ক্ষেত্রে এ শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। বিশেষ করে, সারা বছরে ব্যবহৃত কাঁচা চামড়ার প্রায় অর্ধেকই আসে ঈদুল আজহায় কোরবানির পশু থেকে। ২০২৬ সালের কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিপণনে পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ব্যাংকগুলোকে ব্যবসায়ী-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের অনুকূলে চলতি মূলধন ঋণের সীমা অনুমোদন ও বিতরণ নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বরাদ্দকৃত ঋণ যেন সঠিকভাবে তৃণমূল পর্যায়ের চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছায়, সে বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ট্যানারি মালিক সমিতির নেতা ইমাম হোসাইন দেশ রূপান্তরকে বলেন, কাগজে-কলমে যত নিয়মই দেখানো হোক না কেন, বাস্তবতায় সেগুলোর প্রতিফলন আমরা পাই না। আমরা নিয়ম মেনে আগের বকেয়া ঋণ পরিশোধ করেছি, তবুও নতুন করে ঋণ পেতে বারবার বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। এতে করে ব্যবসায় টিকে থাকা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে আমরা অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জরুরি বৈঠকে বসব এবং সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেব। তারপরও যদি ব্যাংকগুলো আমাদের ন্যায্য ঋণসুবিধা দিতে গড়িমসি করে, তাহলে বাধ্য হবো গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেশের মানুষের সামনে দুরবস্থার কথা তুলে ধরতে। কারণ, এই খাত বাঁচানো শুধু আমাদের জন্য নয়, দেশের অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে আসন্ন ঈদে কোরবানি পশুর চামড়া সংরক্ষণে সরকার বিনামূল্যে লবণ বিতরণ করবে। একইসঙ্গে সঠিকভাবে চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে স্থানীয় পর্যায়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।
গত ৪ মে ডিসি সম্মেলনের চতুর্থ কার্য-অধিবেশন চামড়া সংরক্ষণের বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, যাতে কোনো চামড়া নষ্ট না হয়, সে জন্য সরকারিভাবে লবণ সরবরাহ, প্রশিক্ষণ এবং প্রচার কার্যক্রম চালানো হবে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মসজিদ ও মাদ্রাসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ঈদের পর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চামড়া পরিবহন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, এ বছর কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া আছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজারটি, যা গত বছরের চেয়ে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৯৭টি কম। এতে সংকট তৈরি হবে না বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। সরবরাহের বিপরীতে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪ টি গবাদিপশুর সম্ভাব্য চাহিদা রয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে গত বছর কোরবানির আগে ১ কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৭টি ছিল বলে জানা গেছে।
প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বলছে, এবারে কোরবানিযোগ্য গরু ও মহিষ রয়েছে ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি। ছাগল ও ভেড়া রয়েছে ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি এবং অন্যান্য পশু রয়েছে ৫ হাজার ৬৫৫টি।
অপরদিকে এ বছর ঈদ উপলক্ষে গবাদিপশু বিক্রির জন্য সারা দেশে ৩ হাজার ৬৭৮টি হাট বসবে। এ সময় প্রতিবেশী দেশ থেকে যাতে চোরাই পথে গরু আসতে না পারে সেজন্য সরকার কঠোর ভূমিকা রাখবে।
