২৫ কোটিতে টিকিট কাটা দর্শককে ‘ফ্রি'-তে হট ডগ-কোক খাওয়াবেন ইনফান্তিনো!

আপডেট : ০৬ মে ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম

ভাবুন তো একবার, আপনি ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের একটি টিকিট কিনলেন ২০ লক্ষ বা ২ মিলিয়ন ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৪ কোটি টাকা)। এমন চড়া দামে টিকিট কাটার পর পকেটে কি আর নাস্তা খাওয়ার টাকা থাকবে? চিন্তা নেই! স্বয়ং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো কথা দিয়েছেন, এত টাকা দিয়ে কেউ টিকিট কিনলে তাকে গ্যালারিতে গিয়ে নিজ হাতে ‘হট ডগ’ আর ‘কোক’ খাইয়ে আসবেন তিনি।

সম্প্রতি বেভারলি হিলসে এক কনফারেন্সে টিকিটের দাম নিয়ে সমালোচনার জবাবে এমন ‘রাজকীয়’ রসিকতা করেছেন ফিফা বস।

ঘটনা কী? আসন্ন বিশ্বকাপের ফাইনাল হবে নিউ ইয়র্কে। সেই ম্যাচের টিকিটের দাম যেন রকেট গতিতে ছুটছে। ফিফার অফিশিয়াল রিসেল মার্কেটপ্লেসেই একেকটি টিকিটের দাম উঠেছে ২০ লক্ষ ডলারের বেশি। এই ‘গলাকাটা’ দাম দেখে সমর্থক গোষ্ঠীগুলো ফিফার ওপর চরম চটেছে। ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ তো একে সরাসরি ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে অভিহিত করেছে।

সমালোচনার মুখে ইনফান্তিনো কিন্তু দমে যাওয়ার পাত্র নন। তার দাবি, টিকিটের দাম তো বাজারই ঠিক করে দিচ্ছে। তিনি বলেন, "কেউ যদি ২০ লক্ষ ডলারে টিকিট রিসেল মার্কেটে ছাড়ে, তার মানে এই নয় যে টিকিটের দাম অত বেশি। আর এর মানে এটাও নয় যে কেউ সেটা কিনবে।"

এরপরই তিনি সেই ঐতিহাসিক মজার প্রস্তাবটি দেন। ইনফান্তিনো হাসতে হাসতে বলেন: "যদি সত্যিই কেউ ২ মিলিয়ন ডলারে ফাইনালের টিকিট কেনে, তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে তার জন্য একটি হট ডগ আর কোক নিয়ে যাব। আমি নিশ্চিত করতে চাই যে ওই ভদ্রলোক যেন একটা দারুণ অভিজ্ঞতা পান!"

সবই কি বাজার দর? ইনফান্তিনোর মতে, আমেরিকা হলো বিনোদনের সবচেয়ে বড় বাজার। সেখানে কলেজ পর্যায়ের একটা ফুটবল ম্যাচ দেখতেও ৩০০ ডলার লাগে। সেই তুলনায় বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ২৫ শতাংশ টিকিটের দাম ৩০০ ডলারের নিচে রাখা হয়েছে—এটাকে তিনি বিশাল অর্জন হিসেবেই দেখছেন। 

তার সোজা সাপটা যুক্তি, "আমরা যদি কম দামে টিকিট ছাড়ি, তবে মানুষ সেগুলো কিনে চড়া দামে বাইরে বিক্রি করে দেবে। তার চেয়ে বাজার দরে বিক্রি করাই ভালো।"

কষ্টের কথা হলো, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ফাইনালের সবচেয়ে দামি টিকিটের দাম ছিল ১,৬০০ ডলার। আর ২০২৬-এ সেই টিকিটের অফিশিয়াল দামই শুরু হচ্ছে ১১,০০০ ডলার থেকে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত