জাতির কারিগরদের দায়

আপডেট : ০৭ মে ২০২৬, ০৩:৪৫ এএম

কোনো রাষ্ট্রের উন্নয়নকে সাধারণত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অথবা অবকাঠামোগত উন্নয়ন কিংবা প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়। ইতিহাস বলছে, একটি জাতির প্রকৃত শক্তি নির্ভর করে মানুষের মেধা ও আচরণের ওপর। তাদের মেধা ও আচরণ গড়ে ওঠে শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে। সেই শিক্ষাব্যবস্থার প্রাণ হচ্ছেন শিক্ষক। বিশেষ করে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তারা কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান বিতরণ করেন না, মানুষ গড়ে তোলার ভিত্তি অর্থাৎ শিশুর চিন্তাশক্তি, দৃষ্টিভঙ্গি, মূল্যবোধ, নৈতিকতা, আত্মবিশ্বাস ও মানবিকবোধ গড়ে তোলেন। যেখান থেকে তৈরি হয় আচরণ। ফলে শিক্ষকতা শুধু চাকরি নয়, জাতি গঠনের মহান দায়িত্ব। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশ থেকে, উন্নত দেশের পথে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। প্রযুক্তির উৎকর্ষে স্বাবলম্বী, জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি কিংবা চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবিলা এসব লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজন দক্ষ মানবসম্পদ। কিন্তু দক্ষ মানুষ হঠাৎ করে তৈরি হয় না, তাদের গড়ে তুলতে হয় দীর্ঘ শিক্ষাপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে। আর সেই প্রক্রিয়ার শুরু হয়, প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে। শিশুর জীবনের প্রথম আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এ সময় তার ভাষা, আচরণ, শৃঙ্খলা, সামাজিকতা এবং শেখার অভ্যাস গড়ে ওঠে। একজন প্রাথমিক শিক্ষক যখন শিশুকে বর্ণমালার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন, তখন তিনি শুধু অক্ষর শেখান না, ভবিষ্যতের ভিত্তি নির্মাণ করেন।

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, শিশুর মানসিক ও সামাজিক বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়, শৈশব। এ সময় একজন শিক্ষক যদি শিশুর মধ্যে কৌতূহল, আত্মবিশ্বাস ও মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করতে পারেন, তবে সেই প্রভাব সারাজীবন থাকে। দেশের বাস্তবতায় প্রাথমিক শিক্ষকদের দায়িত্ব আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বহু পরিবারে শিক্ষিত পরিবেশের অভাব। অনেক শিশুর জন্য শিক্ষকই প্রথম আদর্শ ব্যক্তি। বিশেষ করে, গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শুধু পাঠদাতা নন তারা অভিভাবক, পরামর্শদাতা এবং অনেক সময় সামাজিক নেতৃত্বের ভূমিকাও পালন করেন। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, বিদ্যালয়মুখিতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য সচেতনতা কিংবা সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় তাদের ভূমিকা নীরব হলেও গুরুত্বপূর্ণ। দেশে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা প্রায় ৬৫ হাজারের বেশি। কিন্তু এই বিশাল ব্যবস্থার একটি বড় সংকট হলো শিক্ষক স্বল্পতা। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩৪ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য ছিল। একই সঙ্গে সহকারী শিক্ষকের কয়েক হাজার পদ দীর্ঘদিন খালি রয়েছে। সরকার নতুন করে প্রায় ১৭ হাজারের বেশি শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নিলেও বাস্তব চাহিদার তুলনায় তা পর্যাপ্ত নয়। শিক্ষক সংকটের ফলে অনেক বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষককে একাধিক শ্রেণির দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। কোথাও একজন শিক্ষককে একই সঙ্গে প্রশাসনিক কাজ, উপস্থিতি ব্যবস্থাপনা এবং পাঠদান সামলাতে হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে পর্যবেক্ষণ ও মানসম্মত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। একজন শিশুর প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি যদি দুর্বল হয়, তবে পরবর্তী শিক্ষাজীবনেও প্রভাব পড়ে।  মাধ্যমিক শিক্ষা একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্ব ও চিন্তাশক্তি বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি। কৈশোরকাল এমন সময়, যখন শিক্ষার্থীরা জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে শুরু করে। তারা স্বপ্ন দেখে, আবার বিভ্রান্ত হয়। এ সময়ে একজন শিক্ষক কেবল পাঠ্যবইয়ের শিক্ষক নন, তিনি মানসিক দিকনির্দেশকও। একজন শিক্ষকের একটি উৎসাহমূলক বাক্য একজন শিক্ষার্থীর জীবন বদলে দিতে পারে। মাধ্যমিক শিক্ষার এই সংকট অথচ সম্ভাবনাময় পর্যায়ে শিক্ষক যেমন একজন দিকনির্দেশকের ভূমিকা পালন করেন, তেমনি এই সম্পর্ককে ফলপ্রসূ করার জন্য শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকেও সমান দায়বদ্ধতা প্রত্যাশিত। কারণ শিক্ষা কেবল প্রাপ্তির বিষয় নয়, এটা পারস্পরিক নির্মাণ প্রক্রিয়া যেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী।

শিক্ষক তখনই প্রকৃত অর্থে সফল, যখন শিক্ষার্থী তার পাঠকে নিজস্ব চিন্তা-মেধা ও বোধে পুনর্গঠন করতে পারে। এই পুনর্গঠনের প্রক্রিয়াতে শিক্ষার্থী হয়, শিক্ষার সহ-নির্মাতা। কৈশোরের মানসিক জটিলতার প্রেক্ষিতে, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিশ্বাস ও সংলাপ। শিক্ষার্থীর উচিত শিক্ষককে কেবল মূল্যায়নকারী নয়, বরং একজন নির্ভরযোগ্য মেন্টর হিসেবে বিবেচনা করা এবং খোলামেলা যোগাযোগ, আত্মসমালোচনার সক্ষমতা এবং নিজের দুর্বলতা স্বীকার করার মানসিক শক্তি থাকা দরকার। এ ধরনের সংলাপই শিক্ষাকে মানবিক ও প্রাসঙ্গিক করে তোলে। এক্ষেত্রে শিক্ষকও সততার সঙ্গে সমান ভূমিকা পালন করবেন। অন্যদিকে শিক্ষকের সময় ও পরিশ্রমের প্রতি সংবেদনশীলতা শিক্ষার্থীর দায়িত্ববোধের গুরুত্বপূর্ণ সূচক। সময়নিষ্ঠা, প্রস্তুতি এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখা এসব কেবল নিয়ম মানার বিষয় নয়, শিক্ষার প্রতি নৈতিক প্রতিশ্রুতি। একজন শিক্ষক যখন তার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে পাঠদান করেন, তখন শিক্ষার্থীর দায়িত্ব সেই প্রচেষ্টাকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বাস্তবতায়, এই দায়িত্বের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। তথ্যের প্রাচুর্যের মধ্যে সঠিক ও যাচাইকৃত জ্ঞান নির্বাচন করা, ভ্রান্ত তথ্য থেকে নিজেকে দূরে রাখা এবং শিক্ষকের দিকনির্দেশনাকে অনুসরণ করে, সমালোচনামূলক চিন্তার চর্চা করা শিক্ষার্থীর অন্যতম কর্তব্য। না হলে, জ্ঞানের বদলে বিভ্রান্তি বাড়বে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক হবে পারস্পরিক আস্থা, মর্যাদা ও দায়িত্বের বন্ধন। শিক্ষক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেন। আর সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার দায়িত্ব হচ্ছে শিক্ষার্থীর। সম্পর্কের ভারসাম্য যত দৃঢ় হবে, শিক্ষার মান হবে তত গভীর ও স্থায়ী যা শেষ পর্যন্ত ব্যক্তি থেকে সমাজ পর্যন্ত ইতিবাচক পরিবর্তনের ভিত্তি রচনা করে। বাংলাদেশের অনেক সফল মানুষ তাদের জীবনে, শিক্ষকের অবদানের কথা উল্লেখ করেছেন। কারণ মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও উচ্চাকাক্সক্ষা সৃষ্টি করেন। তারা শেখান কীভাবে যুক্তি দিয়ে ভাবতে হয়, কীভাবে সমাজ ও রাষ্ট্র সম্পর্কে সচেতন হতে হয়। আজকের পৃথিবীতে শুধু মুখস্থবিদ্যা দিয়ে টিকে থাকা সম্ভব নয়। প্রয়োজন সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও মানবিকতা। আর এসব দক্ষতা বিকাশে শিক্ষকের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের শিক্ষকদের বড় অংশ প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত। ইউনেস্কোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মাধ্যমিক স্তরে প্রশিক্ষিত শিক্ষকের অনুপাতে বাংলাদেশ সবচেয়ে পিছিয়ে। বাংলাদেশের মাধ্যমিক স্তরের মাত্র ৫৫ শতাংশ শিক্ষকের প্রয়োজনীয় পেশাগত প্রশিক্ষণ আছে। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক শিক্ষকই পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ছাড়াই পাঠদান করছেন। এই তথ্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারণ আধুনিক শিক্ষা শুধু বই পড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষাদানের পদ্ধতি, প্রযুক্তি ব্যবহার, মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিক্ষকের শুধু বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান থাকলেই হয় না, তাকে জানতে হয় কীভাবে শিক্ষার্থীর আগ্রহ তৈরি করতে হয়, কীভাবে দুর্বল শিক্ষার্থীকে সহায়তা করতে হয় এবং কীভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করে শেখার পরিবেশ উন্নত করা যায়।

প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার শিক্ষাব্যবস্থাকে বদলে দিয়েছে। করোনাকালীন অনলাইন শিক্ষা, শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাগুলো স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে আসে। শহরের কিছু বিদ্যালয় অনলাইন ক্লাস চালু করতে পারলেও, গ্রামের বহু শিক্ষার্থী ইন্টারনেট ও প্রযুক্তিগত সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। একই সঙ্গে অনেক শিক্ষক ডিজিটাল শিক্ষাদানের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ পাননি। প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে, শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন। আরেকটি বড় সমস্যা হলো শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত প্রশাসনিক কাজের চাপ। পাঠদানের পাশাপাশি তাদের সরকারি জরিপ, নির্বাচন, তথ্যসংগ্রহ, উপবৃত্তি ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে যুক্ত থাকতে হয়। এতে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষাদানের জন্য পর্যাপ্ত সময় ও মনোযোগ কমে যায়। শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলেন, শিক্ষককে পাঠদানের কাজেই মনোযোগী রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় কোচিংনির্ভরতা ও পরীক্ষাকেন্দ্রিক প্রবণতা উদ্বেগজনক। অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের পাঠগ্রহণের চেয়ে কোচিংয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। ফলে দুর্বল হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মানবিক সম্পর্ক। শিক্ষা যদি শুধু পরীক্ষার নম্বর অর্জনের প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে, তাহলে সৃজনশীল মানুষ গড়ে তোলা অসম্ভব। একজন শিক্ষক তখন আর আলোকবর্তিকা থাকবেন না, তিনি কেবল পাঠ্যসূচি শেষ করার কর্মীতে পরিণত হবেন। শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একসময় সমাজে শিক্ষককে সবচেয়ে সম্মানিত মানুষদের একজন বিবেচনা করা হতো। ধীরে ধীরে সেই অবস্থান দুর্বল হয়েছে। কম বেতন, পেশাগত অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক অবমূল্যায়নের কারণে অনেক মেধাবী তরুণ শিক্ষকতা পেশায় আগ্রহ হারাচ্ছেন। অথচ উন্নত দেশগুলোতে সবচেয়ে মেধাবীদের শিক্ষকতায় আনতে বিশেষ সুবিধা ও মর্যাদা দেওয়া হয়। তারা বুঝেছে, ভালো শিক্ষক ছাড়া উন্নত জাতি গঠন সম্ভব নয়। গ্রামীণ বাংলাদেশের শিক্ষকদের জীবনসংগ্রাম আরও কঠিন। অনেক বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নেই, শিক্ষাসামগ্রীর অভাব, প্রযুক্তিগত সুবিধা সীমিত। বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালিয়ে যান। তাদের এই নীরব আত্মত্যাগ নিয়ে সমাজে খুব কম আলোচনা হয়। অথচ দেশের শিক্ষা বিস্তারে তাদের অবদান অপরিসীম।

রাষ্ট্র যদি দক্ষ, আধুনিক ও মানবিক জাতি গড়ে তুলতে সৎ হয়, তাহলে শিক্ষকদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। নিয়মিত ও মানসম্মত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষকদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় আগ্রহী হন। একই সঙ্গে পাঠদানের বাইরে অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কাজ কমাতে হবে। এ ছাড়া শিক্ষানীতিতে শিক্ষককে কেন্দ্রীয় গুরুত্ব দিতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা উপকরণ, গবেষণার সুযোগ এবং পেশাগত উন্নয়নের পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষকদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষানীতি প্রণয়ন করতে হবে। মাঠপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের বাস্তব পরিস্থিতি সবচেয়ে ভালো জানেন শিক্ষকরা। শুধু রাষ্ট্র নয়, সমাজকেও শিক্ষকদের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে। শিক্ষকদের সম্মান না দিয়ে, কখনো উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়। শিক্ষককে যদি প্রতিনিয়ত অবমূল্যায়ন করা হয়, তাহলে তিনি কীভাবে নতুন প্রজন্মকে আত্মমর্যাদা ও নৈতিকতার শিক্ষা দেবেন? মনে রাখতে হবে- বিচারক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, প্রশাসক কিংবা রাষ্ট্রনায়কের পেছনে শিক্ষকের অবদান আছে। শিক্ষকরা সামনে থেকে আলো পান না, কিন্তু তারাই সমাজকে আলোর পথে এগিয়ে দেন। তারা নীরবে কাজ করেন বলেই জাতি এগিয়ে যায়। আজ যখন আমরা উন্নত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি, তখন আমাদের সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করতে হবে শিক্ষকদের ওপর। কারণ ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে আজকের শ্রেণিকক্ষে। সেই শ্রেণিকক্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন একজন শিক্ষক এবং তাদের মর্যাদাই সবেচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। 

লেখক: চাইল্ড কেয়ার ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড এডুকেশন কনসালট্যান্ট, ইউনিসেফ

[email protected]

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত