চট্টগ্রামের বাঁশখালীর পুইছুড়ি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাচ্ছে না। হাজিরা খাতায় চিকিৎসকের স্বাক্ষর থাকলেও বাস্তবে তাদের দেখা মিলছে না। ফলে দূরদূরান্ত থেকে আসা সেবাপ্রার্থীরা ফিরে যাচ্ছেন চিকিৎসা না নিয়েই।
গত মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় এ চিকিৎসাকেন্দ্রে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভেতরে শুয়ে আছেন নিরাপত্তা প্রহরী মুহাম্মদ মঈন উদ্দিন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোস্টার অনুযায়ী, এদিন মেডিকেল অফিসার ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস শশীর উপস্থিত থাকার কথা। হাজিরা খাতায় তার স্বাক্ষরও পাওয়া যায়। কিন্তু তার দেখা নেই। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, স্বাক্ষরেও মিল নেই।
চিকিৎসকের অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে নৈশপ্রহরী মুহাম্মদ মঈন উদ্দীন বলেন, ম্যাডাম আসার কথা থাকলেও এখনো পর্যন্ত আসেননি।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন রোগী বসে আছেন। নৈশপ্রহরীর দায়িত্বে থাকা মঈন উদ্দীন সাধারণ রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। রোগীরা এসে চিকিৎসককে না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে চলে যাচ্ছেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও রোগীদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, চিকিৎসকদের ইচ্ছামতো খোলা হয় এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বন্ধও হয় তাদের ইচ্ছামতো। কপাল ভালো হলে তাদের পাওয়া যায়। নয়তো নিজেদের ব্যবস্থা নিজেদেরই করে নিতে হয়। এখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে না এলেও প্রতিদিন উপজেলা সদরে প্রাইভেট চেম্বার করেন বলে জানা গেছে।
পুইছুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তারেকুর রহমান বলেন, ‘এখানকার গরিব ও অসহায়দের একমাত্র চিকিৎসা সেবাকেন্দ্র এটি। সেবাবঞ্চিত করার অধিকার কোনো সরকারি কর্মকর্তার নেই। আমরা আগেও তার বিরুদ্ধে লিখিতভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি এখনো বহাল তবিয়তে আছেন।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমা আক্তার বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে ডিউটি ছাড়া সপ্তাহে শনিবার ও মঙ্গলবার ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের কথা ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস শশীর। গত মঙ্গলবার সকালে তিনি অসুস্থ ছিলেন বলে আমাকে জানিয়েছিলেন। তবে তাকে নানা কারণে আগেও শোকজ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এই ডাক্তার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে না যাওয়ার অভিযোগ অনেক পুরনো বিষয়। মৌখিকভাবে তাকে অনেকবার সতর্ক করা হয়েছে। এবার আমরা তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
