১২০০ টাকায়ও মিলছে না শ্রমিক, দুশ্চিন্তায় কৃষক

আপডেট : ০৭ মে ২০২৬, ০২:৩৪ এএম

কুমিল্লার মাঠে এখন পাকা ধানের ছড়াছড়ি। কোথাও ধান কাটার ব্যস্ততা, কোথাও মাড়াই শেষে ঘরে তোলার প্রস্তুতি। তবে এই ব্যস্ততার মধ্যেই বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে শ্রমিক-সংকট। দৈনিক ১২০০ টাকা মজুরি দিয়েও মিলছে না ধানকাটার শ্রমিক। ফলে বিপাকে পড়েছেন জেলার কৃষকেরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নাঙ্গলকোট, লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, চৌদ্দগ্রাম, লালমাই, বড়ুয়া, চান্দিনা, সদর দক্ষিণ, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়াসহ জেলার ১৭ উপজেলায় বোরো ধান কাটার মৌসুম চলছে। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সঠিক সময় ধান কাটতে না পেরে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। সব এলাকায় একসঙ্গে ধান পাকায় শ্রমিক-সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতি শ্রমিককে দৈনিক ১২০০ টাকা মজুরি দিতে হয়। পাশাপাশি দিতে হয় দুই বেলা খাবার। তারপরেও মিলছে না শ্রমিক। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার পড়ছেন কৃষকরা।

এ বিষয়ে কথা হয় নাঙ্গলকোট উপজেলার মৌকরা ইউনিয়ন গোমকোট গ্রামের কৃষক সামছুর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বৃষ্টির আগে ১২০ শতাংশ জমির ধান কেটেছি। ফলনও ভালো হয়েছে। বৃষ্টিতে সব ধান ভিজে গেছে। এতে প্রায় ১০০ মণ ধান নষ্ট হয়ে গেছে। কী করব বুঝতে পারছি না আমরা।’ 

একই গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস বলেন, তিনি ধান কাটার জন্য শ্রমিক পাচ্ছেন না। বেশি পাকার কারণে ধান জমিতে ঝরতে শুরু করেছে।

নাঙ্গলকোট উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসেন বলেন, এ বছর এ উপজেলার ১৩ হাজার ৪১৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। উপজেলায় ১৩টি ধান কাটার যন্ত্র বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ২৫ ভাগ ধান কাটা শেষ হয়ে গেছে।

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, চলমান বোরো মৌসুমে কুমিল্লা জেলায় ১ লাখ ৬২ হাজার ২১৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ইতিমধ্যে বোরো ধান কর্তন শুরু হয়েছে। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ধান কাটতে কৃষকদের কিছুটা সমস্যা হয়েছে। এখন বৃষ্টি কিছুটা কমেছে। আশা করি, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কৃষকরা তাদের কাক্সিক্ষত বোরো ধান ঘরে তুলতে পারবেন। শ্রমিক স্বল্পতার বিকল্প হিসেবে উপজেলা পর্যায়ে রিপার ও কম্বাইন্ড হারভেস্টারের মাধ্যমে ৩০ শতাংশ জমির বোরো ধান কাটার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সহায়তা করছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত