বিশ্বকাপের ইতিহাসে ইংল্যান্ড বা ‘থ্রি লায়ন্স’ মানেই এক আকাশচুম্বী প্রত্যাশা আর ঐতিহ্যের মিশেল। ফুটবল বিশ্বকে আধুনিক ফুটবলের নিয়মকানুন উপহার দেওয়া এই দেশটি এখন পর্যন্ত কেবল একবারই সোনালি ট্রফির স্বাদ পেয়েছে। ঘরের মাঠে ১৯৬৬ সালে ববি মুরের হাত ধরে আসা সেই একমাত্র শিরোপার পর কেটে গেছে দীর্ঘ ৬০ বছর। এই ছয় দশকে ইংল্যান্ড বারবার শক্তিশালী দল নিয়ে এলেও শিরোপার আক্ষেপ ঘুচাতে পারেনি। ১৯৯০-এর ইতালি বিশ্বকাপ এবং ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে তারা সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছালেও চতুর্থ স্থান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে।
সর্বশেষ দুই ইউরো আসরের ফাইনালে হেরে রানার্সআপ হওয়া ইংলিশদের জন্য ২০২৬ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে নিজেদের প্রমাণ করার বড় মঞ্চ। কাতার বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও এবার দলটির চেহারায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। গ্যারেথ সাউথগেটের বিদায়ের পর ডাগআউটে এসেছেন হাই-প্রোফাইল জার্মান কোচ টমাস টুখেল। তার অধীনে ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স দেখিয়েছে তারা। ইউরোপীয় দলগুলোর মধ্যে প্রথম দল হিসেবে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করা ইংল্যান্ড বাছাইপর্বে নিজেদের সবকটি ম্যাচে জয় পেয়েছে, যা তাদের আত্মবিশ্বাসকে নিয়ে গেছে তুঙ্গে।
টমাস টুখেলের দর্শন
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়া টমাস টুখেল ইংল্যান্ড দলে এনেছেন কৌশলী পরিবর্তন। তিনি মূলত দলের রক্ষণভাগের দৃঢ়তা এবং মাঝমাঠের সৃজনশীলতাকে গুরুত্ব দেন। ৩-৪-৩ বা ৪-২-৩-১ ফরমেশনে দলকে খেলানো টুখেল চান হাই-প্রেসিং ফুটবল। আমেরিকার কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তিনি খেলোয়াড়দের জন্য অভিনব ক্যাম্পের পরিকল্পনা করেছেন। তার লক্ষ্য কেবল ভালো ফুটবল নয়, বরং আধুনিক কৌশলের মাধ্যমে ইংল্যান্ডকে বিদেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো ট্রফি জেতানো।
মূল ভরসা হ্যারি কেন ও জুড বেলিংহাম
ইংল্যান্ডের বর্তমান দলের সবচেয়ে বড় শক্তি অধিনায়ক হ্যারি কেন। বায়ার্ন মিউনিখের এই স্ট্রাইকার বাছাইপর্বে সর্বোচ্চ ৮ গোল করে নিজের ফর্মের জানান দিয়েছেন। অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদ তারকা জুড বেলিংহাম বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার। মাঝমাঠে তার সৃজনশীলতা এবং গোল করার ক্ষমতা বিপক্ষ দলের জন্য ভয়ের কারণ।
