দুই দশকের দীর্ঘ আক্ষেপ আর অপেক্ষার অবসান। ২০০৬ সালের পর প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে পা রাখল আর্সেনাল। মঙ্গলবার রাতে এমিরেটস স্টেডিয়ামে আতলেতিকো মাদ্রিদকে ১-০ গোলে হারিয়ে বুদাপেস্টের টিকিট নিশ্চিত করেছে মিকেল আর্তেতার শিষ্যরা। আর গানার্সদের এই রূপকথার মহানায়ক হয়ে রইলেন ক্লাবেরই একাডেমি থেকে উঠে আসা ‘স্টার বয়’ বুকায়ো সাকা।
বুকায়ো সাকার এই সাফল্যের নেপথ্যে ছিল অসহ্য শারীরিক যন্ত্রণা থেকে মাঠে ফেরার এক অবিশ্বাস্য লড়াইয়ের গল্প। অ্যাকিলিস ইনজুরির কারণে টানা পাঁচটি ম্যাচ মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। এমনকি আতলেতিকোর বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে নামার আগে ঠিকমতো অনুশীলনও করতে পারেননি।
আর্সেনালের কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি জানান, গত সপ্তাহে সাকা তাকে বলেছিলেন ‘আমাকে মাঠে থাকতেই হবে। ফুলহামের বিপক্ষে আমাকে খেলতেই হবে। এটা আমার জন্য এখন জীবন-মরণের লড়াই।’ সাকার সেই জেদ বিফলে যায়নি। কদিন আগেই ফুলহামের বিপক্ষে ইনজুরি নিয়ে খেলে গোল করেছিলেন তিনি, যা গানার্সদের প্রিমিয়ার লিগ শিরোপার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছে।
ম্যাচের ৪৫ মিনিটে লিয়ান্দ্রো ত্রসার্দের একটি জোরালো শট আতলেতিকো গোলরক্ষক ইয়ান ওবলাক ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি শটে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান সাকা। এই এক গোলেই দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ফাইনাল নিশ্চিত হয় গানার্সদের। ম্যাচ শেষে সাকা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘এই জয় আমাদের এবং সমর্থকদের কাছে কতটা আবেগের, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমরা আজ সত্যিই আনন্দিত।’
প্রিয় শিষ্যকে নিয়ে কোচ মিকেল আর্তেতা বলেন, ‘এই বিশেষ গোলটি করার জন্য বিশেষ কাউকেই লাগত। সাকা আমার কাছে এবং এই ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত সবার কাছে অত্যন্ত স্পেশাল একজন মানুষ। গোলটি যদি কেউ করতেই হতো, তবে সেটি সাকারই প্রাপ্য ছিল।’
