চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাচ্ছেন

রাষ্ট্রপতির সফরে বিমানের এমডিসহ ১৭ কর্মকর্তা

আপডেট : ০৭ মে ২০২৬, ০৮:০৬ এএম

প্রায় দুই বছর পর চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আগামী ৯ মে লন্ডন যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সফরে তার সঙ্গে চার সদস্যের ব্যক্তিগত প্রতিনিধিদল ছাড়াও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এমডি, প্রধান প্রকৌশলীসহ ১৭ কর্মকর্তার একটি বিশাল বহরও রয়েছে।  ইতিমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে রাষ্ট্রপতির কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়েছিল। পরে নিয়মিত ফলোআপের প্রয়োজন হলেও তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং অন্তর্বর্তী  সরকারের সঙ্গে টানাপড়েনের কারণে তিনি বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পাননি। আগামী ১৭ মে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর এটিই রাষ্ট্রপতির প্রথম বিদেশ সফর। তবে এ সফর কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে তার সফরসঙ্গীর বিশাল বহর নিয়ে। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত প্রতিনিধিদলের চেয়ে বিমানের সদস্য সংখ্যাই বেশি হওয়ায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনৈতিক নোট এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতির যাতায়াতের জন্য বিমানের ভিভিআইপি ফ্লাইট ব্যবহার করা হবে। সাধারণত রাষ্ট্রপ্রধানদের সফরের সময় বিমানের পক্ষ থেকে একটি ছোট কারিগরি দল ও সেবা দল (ক্যাটারিং ও কেবিন ত্রু) সঙ্গে থাকে। তবে এবারের সফরে সংখ্যাটি অস্বাভাবিকভাবে বড়। সফর সদস্যদের একটি তালিকা গত ৫ মে ব্রিটিশ হাইকমিশনে ভিসার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ তালিকায় রয়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এমডি ও সিইও কায়জার সোহেল আহমেদ, শেফ কাজী মিজানুর রহমান, বিএফসিসি কর্মকর্তা মো. আমির হোসেন, উপ-ব্যবস্থাপক অপারেশনস মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, ডি ম্যানেজার মো. জাহিদুল ইসলাম, তিনজন প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইফুজ্জামান খান, মো. আবুল কালাম আজাদ ও মোহাম্মদ গাজিউল ইসলাম, প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার হারুন অর রশিদ চৌধুরী এবং প্রকৌশল বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তার মধ্যে বদরুদ্দোজা মো. মাহফুজ, মো. সাদেকুল ইসলাম ভূঁইয়া, আব্দুল মান্নান, মোহাম্মদ শওকত ইমরান, মো. মোস্তফা কামাল, মাহমুদুর রহমান, মাহবুবুর রহমান ও মোহাম্মদ কাওসার জামান রয়েছেন।

বঙ্গভবন সূত্র জানিয়েছে, ৭৬ বছর বয়সী রাষ্ট্রপতি এ সফরে তার সহধর্মিণী ডা. রেবেকা সুলতানা ও ব্যক্তিগত চিকিৎসকসহ চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে লন্ডনে যাবেন। সেখানে একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে তার স্বাস্থ্যপরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিমানের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভিভিআইপি ফ্লাইটের কারিগরি নিরাপত্তা ও লন্ডনে অবস্থানের সময় বিমানের ফ্লাইটগুলোর সার্বক্ষণিক রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতেই বেশি কর্মকর্তা পাঠানো হচ্ছে। যেহেতু এটি দীর্ঘ সফর এবং ভিভিআইপি ফ্লাইটের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার থাকার কারণে তিনজন প্রধান প্রকৌশলীর উপস্থিতি অপরিহার্য। এতে দোষের কিছু দেখছি না। বিমানের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ তালিকা করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত সব কর্মকর্তার ভিসা প্রক্রিয়া আজকের শেষ হবে বলে আশা করছি।

তবে বিমানের অপর এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং রাষ্ট্রীয় ব্যয় সংকোচনের নীতির মধ্যে ১৭ বিমান কর্মকর্তার যাওয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত তা ভেবে দেখা প্রয়োজন। সাধারণত বিদেশের মাটিতে কারিগরি সহায়তার জন্য স্থানীয় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এজেন্টের সহায়তা নেওয়া হয়। সেখানে বাংলাদেশ থেকে এত বহর পাঠানো অপ্রয়োজনীয় খরচ হিসেবে দেখছেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত