দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননকেন্দ্র হালদা নদী থেকে সংগৃহীত ডিমের উৎপাদিত রেণু বিক্রির মাধ্যমে এবার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সোয়া ২৩ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ এই আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। গত ৩০ এপ্রিল সকালে হালদা নদীতে মা-মাছ প্রথমে নমুনা ডিম ছাড়ে। ওই দিন দুপুরে ও গভীর রাতে পুনরায় ডিম ছাড়ে। হালদা নদীর অংকুরীঘোনা, গড়দুয়ারায় নয়াহাট, সিপাহির ঘাট, পাতাইজ্জ্যার টেক, কাগতিয়ার টেক, সোনাইর মুখ, মাছুয়াঘোনা, আজিমারঘাট, নাপিতেরঘাট, আমতুয়া কুমারখালির টেক, রামদাস মুন্সিহাট, বারিয়াঘোনা, মদুনাঘাট প্রভৃতি এলাকায় ডিম ছাড়ে।
এবার পাঁচ শতাধিক ডিম সংগ্রহকারী ২০৮টি নৌকায় করে নদী থেকে ডিম আহরণ করে। আহরিত ডিমগুলো হালদা নদীর মদুনাঘাট হ্যাচারি, শাহ মাদারি, মাছুয়াঘোনা হ্যাচারি এবং অংকুরীঘোনা হ্যাচারি এবং মোবারকখীল হ্যাচারিতে রেণু ফোটাতে শুরু করে। ডিম হ্যাচিং করে গত ৫ মে থেকে বিক্রি শুরু হয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান ও হালদা রিচার্স ল্যাবেটরির সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া জানান, এই পূর্ণিমার তিথিতে ৬ হাজার কেজি ডিম আহরিত হয়েছে। এসব ডিম থেকে ১৫৫ কেজি রেণু উৎপাদিত হয়েছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য সোয়া ২৩ কোটি টাকা। প্রতি কেজি রেণু এক লাখ ৪০ হাজার থেকে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে বলে জানান ডিম সংগ্রহে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কামাল সওদাগর এবং প্রবীণ ডিম সংগ্রহকারী আশু বড়ুয়া।
এদিকে হালদা নদীতে মাছের ডিম ছাড়ার খবর পেয়ে হালদা নদীর রেণু উৎপাদন ও হ্যাচিং কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। পরিদর্শনকালে তিনি ডিম সংগ্রহকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম, হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহেদ আরমান ও উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. শওকত আলী।
