জনবল সংকটে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ১৯৮৯ সালে ‘খুলনা আড়াইশ বেড হাসপাতাল’ নামে এর যাত্রা শুরুর পর ২০০৮ সালে হাসপাতালটি ৫০০ শয্যায় উন্নীত হলেও নতুন করে জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বর্তমানে হাসপাতালটিতে প্রতিদিন ধারণক্ষমতার তিন থেকে চারগুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকছে। প্রতিদিন প্রায় ১৬০০ থেকে দুই হাজার রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় চিকিৎসক, নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের।
তথ্যানুযায়ী, প্রথম শ্রেণির চিকিৎসকের ৩১৫ পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ২৭০ জন, শূন্য ৪৫ পদ। প্রথম শ্রেণির নার্সিং কর্মকর্তার দুটি পদ থাকলেও নেই একজনও। দ্বিতীয় শ্রেণির নার্সিং কর্মকর্তার ৪৮৬টি পদের মধ্যে দুটি শূন্য। এ ছাড়া তৃতীয় শ্রেণির ৬৪টি পদের মধ্যে দুটি এবং চতুর্থ শ্রেণির ১০৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৫৭ জন।
অন্যদিকে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োজিত কর্মচারী থাকলেও তারা অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ না করায় সেবার মান আরও ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পিরোজপুর থেকে আসা আলেয়া বেগম জানান, আমার শ্বশুরকে নিয়ে আজ দুদিন ৫-৬ নম্বর মেডিসিন ওয়ার্ডে আছি। দুদিন পর আজ বেড পাইছি। মেঝেতে থাকতে খুব কষ্ট হয়েছে। শুনেছিÑ জনবল সংকট, বেডও সংকট।
এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী মো. আইনুল ইসলাম বলেন, ‘ধারণক্ষমতার প্রায় তিন থেকে চারগুণ বেশি রোগী থাকায় এবং জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হয়। রোগীর চাপ এত বেশি যে অনেক সময় মেঝেতেও জায়গা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সেই আড়াইশ বেডের জনবল দিয়েই চলছে হাসপাতালের কার্যক্রম। জনবল সংকট নিরসন হলে হাসপাতালে যেসব সমস্যা আছে, সেটি অনেকাংশে কমে আসবে।
