নিম্নাঞ্চলে প্লাবনের আশঙ্কা

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫১ এএম

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিস্তা ও কুশিয়ারা নদীর দুটি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় কয়েকটি জেলার নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পাঁচ দিনের পূর্বাভাস এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় থাকায় আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকবে।

আগামী পাঁচ দিন পর বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি পানি সমতল স্টেশনের মধ্যে বর্তমানে দুটি স্টেশনে নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে গাইবান্ধার তারাপুর পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৪টি স্টেশনে পানি বেড়েছে, ৪১টিতে কমেছে এবং দুটি স্টেশনে পানি অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে দেশের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ১৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে সুনামগঞ্জের মহেশখোলায়। নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ১০৭, পটুয়াখালীতে ৯৪, বরগুনায় ৯১ এবং পাবনায় ৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। উজানের মেঘালয় ও ত্রিপুরাতেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানির প্রবাহ আরও বাড়াতে পারে। বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী তিন দিনে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এতে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার কিছু স্থানে নদীর পানি সতর্কসীমা অতিক্রম করতে পারে। এসব জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকায় কুশিয়ারা নদী ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে এখনো বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে সুরমা নদীর কানাইঘাট এবং কুশিয়ারার মারকুলি, অমলশীদ ও শেওলা পয়েন্টে পানি সতর্কসীমায় রয়েছে।

আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীসংলগ্ন কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। তবে কুশিয়ারা নদী তীরবর্তী এলাকার বন্যা পরিস্থিতি আপাতত স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত