যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন ফ্রিডম’ উদ্যোগ ঘিরে নতুন অগ্রগতির দাবি উঠেছে। পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পরিচালিত এই অভিযানের জন্য সৌদি আরব ও কুয়েত মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য তাদের ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দৈনিক দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
মার্কিন ও সৌদি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, এই সিদ্ধান্তের ফলে হরমুজ প্রণালীতে পুনরায় অভিযান চালানোর পথ খুলে গেছে। এর আগে মাত্র ৩৬ ঘণ্টা চলার পরই এই অভিযান স্থগিত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) চলতি সপ্তাহেই পুনরায় অভিযান শুরু করার বিভিন্ন বিকল্প পর্যালোচনা করছে, যাতে ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা যায়।
এর আগে ৪ মে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ‘নিরপেক্ষ’ দেশের আটকে পড়া জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালী পার হতে সহায়তা করতে প্রজেক্ট ফ্রিডম হাতে নেয়া হয়। পরে হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেন, ইরানের কারণে হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া প্রায় ৮৭টি দেশের আনুমানিক ২৩ হাজার নাগরিককে উদ্ধারে ‘অপারেশন ফ্রিডম’ চালু করা হয়েছে। তবে ৬ মে ট্রাম্প প্রশাসন হঠাৎ করেই এই প্রকল্প সাময়িকভাবে স্থগিতের ঘোষণা দেয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের বরাতে জানা যায়, ট্রাম্পের এই উদ্যোগ উপসাগরীয় দেশগুলোকে বিস্মিত করেছে। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে নাকি জানানো হয়েছিল, তারা যুক্তরাষ্ট্রকে প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি বা দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না। সূত্রগুলো আরও দাবি করে, ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বৈঠকেও কোনো সমঝোতা হয়নি, যার পরই অপারেশনটি স্থগিত করা হয়।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, আঞ্চলিক মিত্রদের আগে থেকেই বিষয়টি জানানো হয়েছিল।
