বৃক্ষ মাটির নিচে শিকড়ের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পুষ্টি আদান-প্রদান করে হাজার বছর বাঁচতে পারে। আধুনিক বিজ্ঞান বলছে বৃক্ষ আসলে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করে। শুধু আমাদের মতো শব্দ বা চোখে দেখা যায় এমন ভাষায় নয়, বরং তাদের নিজস্ব এক ধরনের রাসায়নিক ও শারীরবৃত্তীয় ভাষায়। যোগাযোগের এই পদ্ধতিকে বিজ্ঞানীরা বলেন ‘উড ওয়াইড ওয়েব’ মানে বৃক্ষ জগতে এক ধরনের ইন্টারনেট। মাটির নিচে বিস্ময়কর এক পৃথিবী কাজ করছে, যেটি আমরা দেখি না। বৃক্ষের মূল এবং ফাঙাস মিলে গড়ে তোলে এক বিস্ময়কর পারস্পরিক সম্পর্ক। এই মিথোজীবিতার নাম ‘মাইকরোরাইজা’। ফাঙাস বৃক্ষের মূলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তাদের কাছ থেকে চিনি ও অন্যান্য জৈব পদার্থ গ্রহণ করে। এর বদলে বৃক্ষকে দেয় খনিজ লবণ ও পানি। গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো বৃক্ষ মারা যাওয়ার আগে আশপাশের বৃক্ষগুলোকে নাইট্রোজেন, কার্বন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান পাঠিয়ে যায়, যেন তারা টিকে থাকতে পারে। কোনো বৃক্ষে পোকা বা শত্রু আক্রমণ করলে, আক্রান্ত বৃক্ষটি বাতাসে ‘ভোলাটাইল অর্গানিক কম্পাউন্ডস’ নামের রাসায়নিক নির্গত করে আশপাশের বৃক্ষকে সতর্ক করে। যেখানে মানুষের গড় আয়ু খুব কম, সেখানে কিছু বৃক্ষ ৫০০ থেকে ৮০০ বছর, এমনকি কয়েক হাজার বছর বেঁচে থাকে। পানি সাইপ্রেসের মতো কিছু বৃক্ষ ডাইনোসরের সময় থেকে পৃথিবীতে টিকে আছে। নর্স পুরাণে ‘ইগড্রাসিল’ নামক একটি বিশাল অ্যাশ বৃক্ষের কথা বলা হয়েছে, যা মহাবিশ্বের কেন্দ্রে অবস্থিত বলে বিশ্বাস করা হয়। বৃক্ষের কথোপকথন আমাদের চোখে পড়ে না। কিন্তু মাটির নিচে, বাতাসে, পাতায় পাতায় এই ‘নীরব ভাষা’ প্রবহমান।
