ক্ষমা চাইলেও পদ ছাড়তে নারাজ ইনফান্তিনো

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০২ এএম

বিশ্বকাপের ২১ শতাংশ বাণিজ্যিক স্বত্ব ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে বিক্রির নজিরবিহীন ও বিতর্কিত উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার পর অবশেষে লিখিত ক্ষমা চেয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ফুটবল বিশ্বের তীব্র প্রতিবাদের মুখে ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নামক প্রস্তাবটি বাতিল করা হলেও, পদত্যাগের সার্বিক চাপ সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে স্বপদে বহাল থাকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

মরক্কোর রাবাতে বুধবার গোপনীয়তার সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক জরুরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে ফিফার শীর্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করেছে যে, ইনফান্তিনোর প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। একই সঙ্গে ফিফা কাউন্সিল এবং ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের কাছে না জানিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য লিখিত ক্ষমা পাঠিয়েছেন ফিফা প্রধান।

বিশ্ব ফুটবলের মূল সম্পদ বিশ্বকাপ বিক্রির মতো এক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল চরম গোপনীয়তার মাধ্যমে। ফিফার নিজস্ব পরিচালনা কর্মকর্তা কেভিন লামুর, গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্ট প্রধান আরসেন ভেনগার এবং বিভিন্ন মহাদেশীয় কনফেডারেশনকে না জানিয়েই এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলে। বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর উয়েফা এবং কনকাকাফের মতো সংস্থাগুলো ফিফার শাসনব্যবস্থা পর্যালোচনার জোরালো দাবি তোলে।

সংকটের মুখে ফিফার সাধারণ সম্পাদক মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রোম এবং প্রধান আইনি কর্মকর্তা এমিলেও গার্সিয়া সিলভেরোর সঙ্গে বৈঠক করেন ইনফান্তিনো। রাবাত বৈঠকের পর দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ফিফা কাউন্সিল এবং সদস্য সংস্থাগুলোকে এই প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়ার কোনো ইচ্ছা আমাদের ছিল না। ভুলত্রুটিগুলো স্বীকার করা হয়েছে এবং এগুলো যাতে ভবিষ্যতে না ঘটে তা নিশ্চিত করতে একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হবে।’ একই সঙ্গে বিবৃতিতে ফিফা সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, ফিফার সততা ও সুনাম রক্ষায় এখন থেকে কোনো ধরনের ‘অন্যায্য সমালোচনা’ আর বরদাশত করা হবে না।

ভুল স্বীকার করে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার এই প্রচেষ্টাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করছেন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া বিশ্লেষকরা। ফিফা যেখানে দাবি করছে যে, রাবাত বৈঠকের মাধ্যমে সংস্থায় ‘আস্থা ফিরে আসছে’, সেখানে এটি স্পষ্ট যে ক্ষমতার জোরে নিজের চেয়ার টিকিয়ে রাখতে চাইছেন ইনফান্তিনো। নিজের ভুলের ওপর পর্দা টানতে তিনি যেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের কৌশল অনুসরণ করছেন যেখানে নিজেকেই অন্যায্য আক্রমণের ‘ভুক্তভোগী’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

ইন্টার মায়ামিকে নিয়ম ভেঙে ক্লাব বিশ্বকাপে সুযোগ দেওয়া, সোমালি রেফারি ওমর আর্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া কিংবা টিকিটের আকাশচুম্বী দাম সব মিলিয়ে ফিফা নেতৃত্বের স্বচ্ছতা ও সততা নিয়ে ফুটবল বিশ্বের বিপুল অংশ এখন প্রশ্ন তুলেছেন।

ইনফান্তিনোর ক্ষমা প্রার্থনা এবং নির্বাহী পরিষদের সমর্থন লাভ সত্ত্বেও উয়েফা তাদের অবস্থান থেকে সরে আসছে না। ইউরোপীয় ফুটবলের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি আগামী ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য শক্তিশালী বিকল্প প্রার্থীর অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত