বিএসএফের গুলিতে কলেজছাত্রসহ দুই বাংলাদেশি নিহত

আপডেট : ১০ মে ২০২৬, ০৭:২৩ এএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনী-বিএসএফের গুলিতে কলেজছাত্রসহ দ্ইুজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ২০ আহত হয়েছেন। গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার ধজনগর সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর তাদের মরদেহ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে বিএসএফ। নিহতরা হলেন ধজনগর গ্রামের হেবজু মিয়ার ছেলে মো. মুরসালিন (২০) ও মধুপুর গ্রামের মকরম আলীর ছেলে নবীর হোসেন (৪০)। মুরসালিন গোপীনাথপুর শাহআলম ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

গত শনিবার বিকালে কসবা উপজেলার ক্ষিরনাল সীমান্তের মেইন পিলার ২০৩৬ এলাকায় ব্যাটালিয়ন পর্যায়ের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মরদেহ দুটি বাংলাদেশে ফেরত দেওয়া হয়। এর আগে গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ধজনগর-পাথারিয়াদ্বার সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের ছররা গুলিতে তারা নিহত হন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে সীমান্ত এলাকায় একদল ব্যক্তি অবস্থানকালে বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে মুরসালিন ও নবীর হোসেনসহ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। পরে ভারতের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দুইজনের মৃত্যু হয় বলে বিএসএফ কর্তৃপক্ষ বিজিবিকে জানায়।

এদিকে বিজিবির পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, প্রায় ১৫ জন বাংলাদেশি ভারতীয় চোরাকারবারির সহায়তায় চোরাচালানের উদ্দেশ্যে প্রায় ২০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। পরে বিএসএফ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা দুই রাউন্ড ছররা গুলি ছোড়ে।

মরদেহ হস্তান্তরের সময় বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের (সুলতানপুর) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম এবং কসবা থানার ওসি নাজনীন সুলতানা। ভারতের পক্ষে ছিলেন বিএসএফের ৪৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল অজিত কুমার সিং। এ ঘটনায় বিএসএফকে প্রটেস্ট নোট দেওয়া হয়েছে এবং সীমান্ত পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত