প্রথমবারের মতো বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ৩ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আগামী অর্থবছরে এডিপির আকার দাঁড়াচ্ছে ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরের এডিপির তুলনায় প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা বেশি।
গতকাল শনিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায় আগামী অর্থবছরের এডিপির খসড়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৬ মে আরেকটি বর্ধিত সভায় এডিপির খসড়া চূড়ান্ত করা হবে। চলতি মাসেই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় আগামী অর্থবছরের এডিপি অনুমোদন দেওয়া হবে, যা পরে বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। নতুন এডিপিতে মোট প্রকল্পের সংখ্যা ১ হাজার ১২১টি।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, খসড়া অনুযায়ী মূল এডিপির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা। এর সঙ্গে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন প্রকল্প মিলিয়ে আরও ৮ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা যুক্ত হবে। এডিপির অর্থায়নে দেশীয় উৎস থেকে আসবে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, আর প্রকল্প সাহায্য হিসেবে পাওয়া যাবে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা।
খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, চলতি এডিপির তুলনায় শিক্ষা খাতে ১৯ হাজার কোটি টাকা এবং স্বাস্থ্য খাতে ১৭ হাজার কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। খসড়া এডিপিতে বরাদ্দের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে, যেখানে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫০ হাজার ৯২ কোটি টাকা। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে শিক্ষা খাত, বরাদ্দ ৪৭ হাজার ৫৯১ কোটি টাকা। তৃতীয় অবস্থানে থাকা স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ৩৫ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা। চতুর্থ স্থানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দ ৩২ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা এবং পঞ্চম স্থানে গৃহায়ণ খাতে বরাদ্দ ২০ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা।
