গতির কাছে হেরে দুর্গতিতে বাংলাদেশ

আপডেট : ১০ মে ২০২৬, ০৮:০২ এএম

বাংলাদেশের সুখের সময় দীর্ঘ হলো না। প্রথম দিন দারুণ ব্যাটিং করার তৃপ্তি দ্বিতীয় দিন সকালেই মিলিয়ে যায়। সকালে তৈরি হওয়া অস্বস্তি টেকসই হয় পুরো দিন। যেখানে থাকে ব্যাটিং ব্যর্থতা, ক্যাচ মিস ও এলোমেলো বোলিং। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট শুরুর আগে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ নিয়ে যত আলোচনা ছিল, মাঠে সেটার প্রভাব দেখা গেছে সামান্যই। বাংলাদেশের বোলারদের দারুণভাবে সামলে পাকিস্তানকে ঝলমলে দিন উপহার দেন দুই অভিষিক্ত আজান আওয়াইজ ও আবদুল্লাহ ফজল। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট খেলতে নামা এ দুজন অসাধারণ ব্যাটিং করেছেন, রীতিমতো পরীক্ষা নিয়েছেন বাংলাদেশের বোলারদের।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চলমান সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪৬ ওভারে ১ উইকেটে ১৭৯ রান তুলে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে পাকিস্তান। ২১ বছর বয়সী আওয়াইজ ১৩৩ বলে ১২টি চারে ৮৫ রানে অপরাজিত আছেন। ৭৮ বলে ৩৭ রানে অপরাজিত আছেন ফজল। ব্যাট হাতে পাকিস্তানের শক্ত অবস্থান গড়ায় অবদান আছে ইমাম-উল-হকেরও, ৭২ বলে ৪৫ রান করেন তিনি। প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রান তোলা বাংলাদেশ ২৩৪ রানে এগিয়ে। ব্যবধানটা অবশ্য আরও বেশি হতে পারত। কিন্তু ৫ উইকেট নেওয়া পাকিস্তান পেসার মোহাম্মদ আব্বাসকে ঠিকঠাক সামলাতে না পারায় সেটা হয়নি।    

দারুণ একটি দিন কাটানোর পর মুমিনুল হক জানিয়েছিলেন, দ্বিতীয় দিনের প্রথম ঘণ্টাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। উইকেটে না হারিয়ে সময়টা পার করা গেলে ৪৫০-৫০০ রান করা সম্ভব। কিন্তু ঝামেলাহীনভাবে এই সময়টা পার করতে পারেনি বাংলাদেশ। প্রথম দিন ৮৫ ওভারে ৪ উইকেটে ৩০১ তোলা ঘরের মাঠের দলটি গতকাল ৩২.১ ওভারে আর ১১২ রান তুলে অলআউট হয়। যোগ্য সঙ্গী না পাওয়ায় নির্ভারভাবে খেলতে পারেননি ‘বার্থ ডে বয়’ মুশফিকুর রহিম। অন্য প্রান্তের পতনের দৃশ্য মনের আড়ালে রেখে ইনিংস বড় করা হয়নি তার। ২৯তম টেস্ট হাফ সেঞ্চুরি করা অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান ১৭৯ বলে ৮টি চারে ৭১ রান করেন। একবার জীবন পাওয়া লিটন কুমার দাস আউট হন চরম দৃষ্টিকটু শট খেলে। আব্বাসের করা অনেক বাইরের বল পুল করতে গিয়ে মিড অনে ধরা পড়েন ৬৭ বলে ৩৩ রান করা লিটন। তাইজুল ইসলামের ১৭ ও তাসকিন আহমেদের ১৯ বলে ২৮ রানে ৪০০ পেরোয় বাংলাদেশ। শাহিন শাহ আফ্রিদি ৩টি এবং হাসান আলি ও নোমান আলি একটি করে উইকেট নেন। 

জবাবে দাপুটে শুরু করে পাকিস্তান। অভিষিক্ত ওপেনার আওয়াইজ ও ইমাম ওয়ানডের গতিতে রান তুলতে থাকেন। এর মধ্যে কিছুটা ভীতি ছড়ান বাংলাদেশ পেসার নাহিদ রানা। ইনিংসের সপ্তম ও নিজের প্রথম ওভারে গতিময় এক বাউন্সারে আওয়াইজের হেলমেটে আঘাত হানেন বাংলাদেশের এই পেস সেনসেশন। এই আঘাতে দুই দফায় ফিজিওকে মাঠে ডাকতে হয় পাকিস্তানি ওপেনারকে। দুই ওভার পর উইকেটের সম্ভাবনা জাগান ইবাদত হোসেন। ডানহাতি এই পেসারের করা অফ স্টাম্পের বাইরের ফুলার ডেলিভারিতে কভার ড্রাইভ খেলার চেষ্টা করেন ইমাম, ব্যাট ছুঁয়ে বল চলে যায় উইকেটের পেছনে। কিন্তু তৃতীয় স্লিপে দাঁড়ানো মাহমুদুল হাসান জয় ক্যাচটি নিতে পারেননি।

নবম ওভারে বাংলাদেশের উইকেটের উল্লাস বেশি সময় টেকেনি। নাহিদের ১৪৪.৩ কিলোমিটার গতির ডেলিভারিতে পরাস্ত হন ইমাম। বাংলাদেশের এলবিডব্লিউর আবেদনে সাড়া দিয়ে আঙুল তোলেন আম্পায়ার। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান পাকিস্তান ওপেনার। ইমাম-আওয়াইজের ব্যাটে ১০ ওভারে ৫০ রান তোলা পাকিস্তান ২০.৫ ওভারে ১০০ ছাড়ায়। ১৫ ওভার পর্যন্ত পেসারদের ব্যবহার করা বাংলাদেশ প্রথম সাফল্য পায় স্পিনে। ২২তম ওভারের শেষ বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে ইমামকে বিদায় করেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট খেলতে নামা আইওয়াইজ তখনো অবিচল, আরেক অভিষিক্ত আবদুল্লাহ ফজলের সঙ্গে গড়ে তোলেন জুটি। আন্তর্জাতিক আঙিনায় পা রেখেই দায়িত্বশীলতার প্রতীক হয়ে ওঠা এ দুজন দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন। অনেক চেষ্টার পর ৪৩তম ওভারে এই জুটি ভাঙার সুযোগ আসে। কিন্তু তাসকিনের বলে তোলা ফজলের ক্যাচ নিতে ব্যর্থ হন গালিতে থাকা সাদমান ইসলাম অনিক।

বর্তমান সময়ে বোলিংয়ে বাংলাদেশের গর্বের জায়গা পেস বিভাগ। এই বিভাগ যারা সামলান; সেই তাসকিন, ইবাদত, নাহিদরা গতকাল এলোমেলো বোলিং করেছেন। সবুজাভ এমন উইকেটেও পেসারদের কেন এই হাল? বাংলাদেশের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন মনে করেন, সবুজ উইকেটে দেখে বেশি উত্তেজনায় পথ হারিয়েছেন বোলাররা। তিনি বলেন, ‘পুরোটাই মানসিক। কারণ যখন দেখবেন উইকেটে ঘাস আছে, তখন বোলারদের এক্সাইটেড হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আমার মনে হয় ওখানেই আমরা ভুলটা করেছি। ভালো জায়গা মেইন্টেইন করা খুব বেশি জরুরি ছিল, সেখানে হয়তো আমরা ভুলটা করেছি।’

ক্যাচ মিস হওয়ার ব্যাপারটিও বাংলাদেশের জন্য চিন্তার কারণ। সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের কিছু এরিয়াতে উন্নতি অনেক দরকার, বিশেষ করে সিøপ ক্যাচিং। কারণ, এটা একটা বিশেষ জায়গা। এই জায়গাটায় আরও কীভাবে উন্নতি করা যায়, সেটা নিয়ে আমরা কথা বলব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত