মানিকগঞ্জের ঘিওরে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বিরোধী এক সচেতনতামূলক সমাবেশে কঠোর বার্তা দিয়েছেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর। তিনি বলেছেন, মাদকের পক্ষে কেউ তদবির করতে এলে, সে আমার ভাই হলেও আগে তাকে গ্রেপ্তার করুন।
শনিবার (৯ মে) বিকালে ঘিওর উপজেলার বড়টিয়া ইউনিয়নের শ্রীবাড়ি চৌরাস্তা মোড়ে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘জাগো বাংলা ইয়ুথ সোসাইটি’ ও ‘শ্রীবাড়ি একতা জনকল্যাণ যুব সংঘ’ যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এমপি জিন্নাহ কবীর বলেন, মাদক একটি পরিবার ও সমাজ ধ্বংসের অন্যতম কারণ। অনেক অভিভাবক সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য জীবনের সব কষ্ট সহ্য করেন, কিন্তু সেই সন্তান মাদকে জড়িয়ে পড়লে পুরো পরিবার বিপর্যস্ত হয়ে যায়। তাই সন্তানদের প্রতি অভিভাবকদের আরও যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যখন মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাবে, তখন কোনো মাদকসেবী বা কারবারির জন্য থানায় গিয়ে তদবির করা যাবে না। কেউ সুপারিশ করতে গেলে তাকেও আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।
উন্নয়ন প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার কাজ করছে এবং গ্রামাঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর করতে সরকার আন্তরিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় তিনি জানান, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ইভটিজিংবিরোধী এটি তার ২১তম সচেতনতামূলক সভা। জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে সমাজের অন্যায়-অনিয়ম তুলে ধরতে সাংবাদিকদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
জাগো বাংলা ইয়ুথ সোসাইটির সভাপতি ও সাংবাদিক বি.এম খোরশেদের সঞ্চালনায় এবং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আয়ুব আলী খান মুকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মাকসুদুর রহমান মুকুল, জেলা কৃষক দলের সাবেক আহ্বায়ক জামিল আহম্মেদ মনি, ঘিওর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর মানিকুজ্জামান মানিক, সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল আলীম খান মনোয়ার, শিবালয় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মিনাজুর রহমান লিটন, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসিব ইকবাল রনি, শিবালয় উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. হোসেন আলী, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জিহাদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব খান অয়নসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা।
রোমাঞ্চিত দিশা পাটানি