ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে দুই মাসে প্রায় ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ব্যারেল তেলের সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকোর প্রধান নির্বাহী আমিন নাসের এই তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, বর্তমানে জ্বালানি সরবরাহ পুনরায় শুরু হলেও পুরো ব্যবস্থাটি আগের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে বেশ সময় লাগবে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে আমিন নাসের বলেন, যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় যে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে, তার ফলে গত দুই মাসে বিশ্ব ১০০ কোটি ব্যারেল তেল হারিয়েছে। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো জ্বালানি প্রবাহ সচল রাখা, এমনকি যখন পুরো ব্যবস্থাটি তীব্র চাপের মুখে থাকে।
তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন যুদ্ধের কারণে লোহিত সাগর এবং হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলোতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
আরামকো প্রধানের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, জ্বালানি বাজার এখনো অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সরবরাহ ব্যবস্থা পুনর্গঠন এবং বাজারের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে উৎপাদনকারী দেশ এবং আন্তর্জাতিক মহলের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। অন্যথায়, তেলের এই তীব্র ঘাটতি বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরবরাহের এই বিশাল ঘাটতি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদী উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বৈশ্বিক এই সংকটের মধ্যেও রেকর্ড মুনাফা করেছে সৌদি আরবের এই তেল জায়ান্ট। তেলের উচ্চমূল্য এবং বিক্রির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) আরামকো ১২০.১৩ বিলিয়ন রিয়াল (প্রায় ৩২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) নিট মুনাফা অর্জন করেছে। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫.৫ শতাংশ বেশি।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সংবাদ
ইরানি জাহাজ ধ্বংসের এআই ছবি শেয়ার করলেন ট্রাম্প