পাকিস্তানকে কত রানের লক্ষ্য দেবে বাংলাদেশ?

আপডেট : ১০ মে ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম

টেস্ট ক্রিকেটের পরতে পরতে জড়িয়ে থাকে রোমাঞ্চ, ক্ষণে ক্ষণে রং বদলায় ক্রিকেটের সবচেয়ে অভিজাত ফরম্যাটের খেলাটিতে। দ্বিতীয় দিন শেষে যে বাংলাদেশ ছিল হতাশায় মোড়ানো, তৃতীয় দিনে তাদের মুখেই তৃপ্তির হাসি। আগের দিনের বোলিংয়ের ভুল শুধরে নিয়ে প্রতিপক্ষের পথ ছোট করা বাংলাদেশ এখন ম্যাচ জয়ের পরিকল্পনা আটছে।

কতো রান করলে বা পাকিস্তানকে কতো রানের লক্ষ্য দিলে জয়ের লড়াইয়ে টিকে থাকা যাবে, তৃতীয় দিন শেষে তা জানিয়েছেন দারুণ বোলিংয়ে ৫ উইকেট নেওয়া মেহেদী হাসান মিরাজ। 

বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে করা ৪১৩ রানের জবাবে পাকিস্তান তুলেছে ৩৮৬ রান। প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পাওয়া স্বাগতিকরা দ্বিতীয় ইনিংসে ১.৫ ওভার ব্যাটিং করেছে, বিনা উইকেটে সংগ্রহ ৭। ৩৪ রানের লিড নিয়ে চতুর্থ দিন ব্যাটিংয়ে নামবেন দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলাম অনিক। অবস্থা বিবেচনায় মিরাজ মনে করছেন, জয়ের আলোচনায় ম্যাচে দুই দলের একই বিন্দুতে অবস্থান। 

'এখনও দুই দিন বাকি আছে। ফল ফিফটি-ফিফটি অবস্থায় আছে। কারণ, আমরা অনেক বেশি লিড পাইনি এবং দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করতে হবে। মিরপুরে কতো রান নিরাপদ, এটা আপনি বলতে পারবেন না। কিন্তু এমন রান যেন করতে পারি, যেটা আমরা বোলাররা ডিফেন্ড করতে পারি। তো আমার কাছে মনে হয়, ২৯০ বা ৩০০ রান ভালো স্কোর হতে পারে এই উইকেটে। কারণ চার-পাঁচ নম্বর দিনে অনেক কঠিন হবে। সব ব্যাটসম্যানকে দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে,' বলেন মিরাজ।

এই টেস্ট শুরুর আগে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ নিয়ে অনেক আলোচনা ছিল। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সুবজ উইকেট দেখে অনেকেই পেসারদের সুবিধার পাওয়া কথা জানান। প্রথম দিনের শুরুতে পাকিস্তানের পেসারদের বোলিংও সেই ইঙ্গিত দিচ্ছিল। যদিও তাদের সবচেয়ে কম গতিসম্পন্ন পেসার মোহাম্মদ আাব্বার সবচেয়ে সফল হয়েছেন, ৫ উইকেট নেন। কিন্তু পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসে উল্টো চিত্র। বাংলাদেশের পেসারদের শিকার ৩ উইকেট, বাকি ৭ উইকেট গেছে স্পিনারদের ঝুলিতে। এর মধ্যে মিরাজের শিকারই ৫ উইকেট। 

এমন উইকেটে কোন পরিকল্পনায় সফল হয়েছেন, মিরাজ বলেন, ‘আমার মাইন্ড সেটআপ এ রকম ছিল যে, আমি যেন ভালো জায়গায় বল করি। আর আমি যখন বোলিং করেছি তখন আমরা ব্যাকফুটে ছিলাম। কারণ আমরা অনেক রান দিয়ে দিয়েছি, উইকেটও পড়েনি। তো আমার দায়িত্ব ছিল, এক প্রান্ত থেকে রান যেন না দেই। কারণ, আমি যদি রান দিয়ে দিই, তাহলে কিন্তু ওদের খেলা আরও ওপেন হয়ে যাবে এবং ওরা হয়তো আরো ৩০-৪০ রান বেশি রান করতো। তখন আমরা ব্যাকফুটে পড়ে যেতাম। স্পিনার হিসেবে আমি যখন সত্যিকারের উইকেটে খেলি, তখন মাইন্ড সেটআপ এটাই থাকে যে, আমি ভালো জায়গায় বল করবো এবং দিন শেষে যদি দুই-তিনটা উইকেট পেতে পারি, তাহলে এটা ভালো। দ্বিতীয় ইনিংসে আমি অ্যাটাকিং বোলার হিসেবে আসবো, যখন উইকেটে বল টার্ন করবে।’

তিন দিন পর্যন্ত মিরপুরের উইকেট স্পোর্টিং ছিল, তবে বাকি দুই দিন ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন হবে বলে মনে করেন মিরাজ। ডানহাতি এই অফ স্পিনার বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, তিনটা দিন ভালো উইকেট ছিল এবং খুবই ভালো উইকেট। এখনো উইকেট ভালো আছে। চতুর্থ-পঞ্চম দিনে তো একটু কঠিন হবেই। কারণ একটা উইকেটে নিয়মিত খেলা হচ্ছে, দুই ইনিংস হয়েছে। তো অতোটুকু দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটসম্যানদের খেলতে হবে। আমার কাছে মনে হয়, পঞ্চম দিনে যারা ব্যাটিং করবে, ওরাই ব্যাটিং করবে; তো আমরা অবশ্যই সুবিধা পাবো।’

পঞ্চম দিনে পাকিস্তানকে ব্যাটিং করাতে এবং তাদেরকে বড় লক্ষ্য দিতে চতুর্থ দিনে বাংলাদেশকে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করতে হবে, সেই কথাটিই বারবার উল্লেখ করে গেলেন মিরাজ। এ পথে বড় দায়িত্ব জয় ও সাদমানের ওপর, তারা ভালো শুরু এনে দিতে পারলেই কেবল বড় সংগ্রহের সিড়ি পাবে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে দুজনের কেউ-ই রানের দেখা পাননি। দায়িত্বের পাশাপাশি তাই চাপের বোঝাও থাকছে এ দুজনের কাঁধে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত