আদা বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মসলা জাতীয় ফসল। কিন্তু চাহিদার তুলনায় আদা উৎপাদন অপ্রতুল। উৎপাদন কম হওয়ার কারণ আদা চাষের উপযোগী জমির অভাব এবং কন্দপচা রোগের ব্যাপক আক্রমণ হওয়া। কন্দপচা রোগের কারণে আদার ফলন শতকরা ৫০-৮০ ভাগ পর্যন্ত কম হয়ে যায়। এই দুই সমস্যার চমৎকার একটি সমাধান হলো বাড়ির ছাদে আদা চাষ। বাড়ির ছাদে খুব সহজেই বস্তা বা টবে আদা চাষ করা যায়। এই পদ্ধতিতে জায়গার সাশ্রয় হয় এবং কন্দপচা রোগের ঝুঁকিও অনেক কমে যায়।
আদা চাষের ধাপ
উপযুক্ত সময় : ফাল্গুন থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস (ফেব্রুয়ারি থেকে মে) আদা লাগানোর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।
পাত্র নির্বাচন : পুরনো সিমেন্টের বস্তা, প্লাস্টিকের বস্তা বা বড় সাইজের টব ব্যবহার করা যেতে পারে। বস্তার সুবিধা হলো এতে বাতাস চলাচল ভালো হয় এবং ফলনও বেশি পাওয়া যায়।
মাটি প্রস্তুত : সমপরিমাণ মাটি ও জৈব সারের (যেমন- গোবর সার বা ভার্মি কম্পোস্ট) সঙ্গে অর্ধেক পরিমাণ বালু মিশিয়ে ঝুরঝুরে মাটি তৈরি করে নিন। প্রতি বস্তার মাটির সঙ্গে সামান্য ট্রাইকোডার্মা বা ছত্রাকনাশক মিশিয়ে নিলে গাছ সুস্থ থাকে।
বীজ বপন : আদার কন্দগুলো ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন যাতে প্রতিটি টুকরোয় অন্তত ২-৩টি চোখ বা কুঁড়ি থাকে। এরপর সেগুলো ২-৩ ইঞ্চি গভীরে পুঁতে দিন।
পরিচর্যা
আলো : আদা গাছ সরাসরি কড়া রোদ সহ্য করতে পারে না। তাই ছায়ার জায়গায় বা দিনে ৪-৬ ঘণ্টা হালকা রোদ পায় এমন স্থানে পাত্রগুলো রাখুন।
সেচ : মাটিতে আর্দ্রতা বজায় রাখতে নিয়মিত জল দিন, তবে জল যাতে জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন।
সার : গাছ কিছুটা বড় হলে নিয়মিত বিরতিতে তরল জৈব সার প্রয়োগ করতে পারেন।
ফসল সংগ্রহ
আদা রোপণের ৮-১০ মাস পর যখন গাছের পাতা হলুদ হয়ে শুকিয়ে যেতে শুরু করবে, তখন আদা সংগ্রহের উপযুক্ত সময় হয়।
