'পাকিস্তানকে হারানোর সাহস ছিল বলেই এই জয়', শান্ত

আপডেট : ১২ মে ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ মানেই কি শেষ সেশনে রক্ষণাত্মক হয়ে ম্যাচ ড্রয়ের চেষ্টা? মিরপুর টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০৪ রানের মহাকাব্যিক জয় সেই পুরনো ধারণা চিরতরে বদলে দিয়েছে। ম্যাচের চতুর্থ দিন শেষে পাকিস্তানি ব্যাটার আগা সালমান চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছিলেন, বাংলাদেশ ইনিংস ঘোষণা করার ‘সাহস’ দেখাবে না। কিন্তু পঞ্চম দিনে মাঠের লড়াইয়ে নাজমুল হোসেন শান্তর দল যা দেখাল, তা কেবল জয় নয়—বরং এক নতুন বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ।

সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক শান্ত যখন হাসিমুখে কথা বলছিলেন, তখন তাঁর চোখে-মুখে ছিল প্রাপ্তির তৃপ্তি। সালমানের সেই মন্তব্য প্রসঙ্গে শান্ত সোজাসাপ্টা জানালেন, তিনি এমন কোনো চ্যালেঞ্জের কথা জানতেনই না। বরং তাঁদের পরিকল্পনা ছিল শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক। শান্ত বলেন:

"আজকে সকাল থেকে আমাদের একটা বার্তা ছিল যে, আমরা খেলাটা জেতার জন্য খেলব। পরিস্থিতি যেরকমই থাকুক। চা বিরতির সময় কোচ এই বার্তা দিয়েছে এবং আমরা সবাই ওই বিশ্বাসটা নিয়েই মাঠে ঢুকেছিলাম।"

সাধারণত বাংলাদেশ নবম উইকেট হারানোর পর শেষ রানটি পর্যন্ত লড়াই করার চেষ্টা করে। কিন্তু এবার মিরপুরে দেখা গেল ভিন্ন দৃশ্য। প্রথম সেশন শেষ হওয়ার কয়েক ওভার আগেই বাংলাদেশ ইনিংস ঘোষণা করে দেয়। লক্ষ্য কিছুটা কম হয়েছে স্বীকার করেও শান্তর কণ্ঠে ছিল বোলারদের ওপর অগাধ বিশ্বাস। তাঁর মতে, ড্র নয়, জেতার জন্যই মাঠে নেমেছিলেন তারা: "একবারের জন্যও এরকম চিন্তা করিনি যে, আমরা হেরে যেতে পারি বা এখান থেকে আমরা খেলাটা ড্র করতে চাই। আমাদের ওই আক্রমণাত্মক মানসিকতা ছিল।"

২৭০ রানের কাছাকাছি লক্ষ্য দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও শান্তর সাহসী সিদ্ধান্তে পাকিস্তান পায় ২৬৭ রানের টার্গেট। এই সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল, তা প্রমাণ করেছেন বোলাররা। মিরাজের শুরু, তাসকিনের ব্রেক-থ্রু আর তাইজুল-রানার বিধ্বংসী বোলিংয়ে খেই হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান। বিশেষ করে প্রথম ইনিংসে সুযোগ কম পাওয়া তাইজুল ও তাসকিন-রানার গতির কাছে আত্মসমর্পণ করে সফরকারীরা।

পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা তৃতীয় এবং ঘরের মাঠে প্রথম এই টেস্ট জয়কে ভবিষ্যতের জন্য বড় এক বিজ্ঞাপন হিসেবে দেখছেন শান্ত। তিনি মনে করেন, এই  সাহসী সিদ্ধান্ত দলকে মানসিকভাবে অনেক শক্তিশালী করবে: "আমরা যে ইনিংস ঘোষণা করেছি এটা অনেক বড় সিদ্ধান্ত ছিল, যেটা সাধারণত আমাদের দল কখনো করে নাই। এই জিনিসটা ভবিষ্যতে আমাদের আরও আত্মবিশ্বাস জোগাবে যে, এখান থেকেও এভাবে ম্যাচ জেতা সম্ভব।"

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত