সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে বিদেশি স্বার্থ রক্ষায় আমদানি নির্ভর করেছিল। দেশের খনি থেকে উৎপাদিত কয়লা ও পাথর ব্যবহারের পর প্রয়োজন অনুযায়ী বাকি অংশ আমদানি করা হবে। দেশীয় খনিজ সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) বোর্ড রুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এরপর বেলা সাড়ে ১২ টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত মধ্যপাড়া পাথর খনির কনফারেন্স রুমে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা ইকবাল হাসান মাহমুদ এমপি। পরে বিকেল সাড়ে ৫টায় বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক ৫২৫ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট টারবাইন পরিদর্শন করেন মন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান, দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর হোসেন, দিনাজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক, দিনাজপুর-৫ আসনের পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী এলাকার সংসদ সদস্য এজেডএম রেজওয়ানুল হক, বিদ্যুৎ সচিব ও বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি পরিচালনা পর্ষদ চেয়ারম্যান ফারজানা মমতাজ, জ্বালানি বিভাগের সচিব সাইফুল ইসলাম, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান এরফানুল হক।
আরও উপস্থিত ছিলেন পিডিবির চেয়ারম্যান রেজাউল করিম, বিসিএমসিএল'র ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শাহ আলম, মধ্যপাড়া পাথর খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী ডি.এম. জোবায়েদ হোসেন, বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক ও পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাদ্দাম হোসেনসহ খনি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মধ্যপাড়া পাথর খনিতে বিপুল পরিমাণ অবিক্রিত পাথর স্তুুপ। দেশীয় পাথর ব্যবহার না করে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে আমদানিকৃত পাথর ব্যবহার করায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মধ্যপাড়া পাথর খনির বর্তমান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসি উৎপাদন বৃদ্ধি করায় খনিটি দীর্ঘদিনের লোকসান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছিল। উৎপাদিত পাথর বিক্রি না হওয়ায় খনিটি আবারও আর্থিক সংকটে পড়েছে। বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিট বন্ধ থাকায় বড়পুকুরিয়া খনিতে উৎপাদিত কয়লার মজুদ বাড়ছে।
সম্প্রতি দৈনিক দেশ রূপান্তরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর দুটি খনি এবং তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
রাজধানীতে ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার