ব্যস্ত নগরজীবনে ফ্যাশনের সঙ্গে আরামেরও দরকার হয়। আঁটসাঁট পোশাকের ভিড়ে আবারও স্বস্তি নিয়ে ফিরে এসেছে ঢোল সালোয়ার। পুরনো দিনের ঐতিহ্যবাহী এই পোশাক নতুন কাট, আধুনিক ডিজাইন আর ফিউশনযোগে হয়ে উঠেছে ট্রেন্ডি। হাঁটার সঙ্গে সঙ্গে ঢেউ খেলানো ভাঁজ, ঢিলেঢালা স্টাইলিশ উপস্থিতির কারণে টিনএজ থেকে তরুণীদের পছন্দের পোশাক হয়ে উঠেছে। লিখেছেন মোহসীনা লাইজু
কলেজ ক্যাম্পাস, অফিস, আড্ডা কিংবা উৎসবের পোশাকে জায়গা নিয়েছে ঢোল সালোয়ার। সালোয়ারের নাম কেন ঢোল তা অনেক ডিজাইনারই বলতে পারেননি। তবে ধারণা করা হয়, দেখতে ঢোলের মতো তাই হয়তো এর নাম ঢোল সালোয়ার। এই সালোয়ারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর স্বস্তিদায়ক ডিজাইন। সাধারণ সালোয়ারের তুলনায় এটি অনেক বেশি ঘেরযুক্ত এবং নিচের দিকে ঢেউ খেলানো থাকে। ফলে গরমের দিনে যেমন আরাম মেলে, তেমনি চলাফেরাতেও থাকে স্বাচ্ছন্দ্য। যারা একটু ভিন্নধর্মী সাজ পছন্দ করেন, তাদের তালিকায় এ সময় জায়গা নিয়েছে ঢোল সালোয়ার।
কাপড়, নকশা ও রঙের ব্যবহার
ঢোল সালোয়ারের কাপড় নির্বাচন খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর সৌন্দর্য অনেকটাই নির্ভর করে কাপড়ের ফ্লো বা পড়ন্ত ভাবের ওপর। গরমের জন্য সুতি, ভয়েল, খাদি ও লিনেন জনপ্রিয়। এসব কাপড় ঘাম শোষণ করে এবং দীর্ঘসময় আরাম দেয়।
যারা একটু সফট ও স্টাইলিশ লুক চান, তারা বেছে নিতে পারেন জর্জেট কিংবা ভিসকস। উৎসব বা দাওয়াতের জন্য সিল্ক ব্লেন্ড, মসলিন বা জামদানি মোটিফের ঢোল সালোয়ার অনেক ডিজাইনার ডিজাইন করেছেন। তবে ফেব্রিকসটা নরম ও হালকা হলে সালোয়ারটা দেখতে যেমন ভালো লাগে, তেমনি ব্যবহার করে আরাম পাওয়া যায়। গরমের এই সময়টাতে ব্লক প্রিন্ট, বাটিক, টাই-ডাই, হ্যান্ড পেইন্ট ও স্ক্রিন প্রিন্টের ফেব্রিকসও অনেকে বেছে নিচ্ছেন প্রতিদিন ব্যবহারের জন্য।
ঢোল সালোয়ারের ডিজাইনেও আছে নতুনত্ব। অনেক সালোয়ারের নিচের অংশে লেইস, কুচি, ট্যাসেল বা হালকা এমব্রয়ডারির দেখা যাচ্ছে। কোন ঢোল সালোয়ারের সঙ্গে দুপাশে পকেটও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। রঙের ক্ষেত্রেও এসেছে বৈচিত্র্য। প্যাস্টেল শেড, অফ হোয়াইট, মাটি রঙ, অলিভ, সরিষা হলুদ, নীল কিংবা কালো রঙ এখন বেশি ট্রেন্ডে। গরমের দিনে হালকা রঙের ঢোল সালোয়ার প্রশান্তি আনে চোখে। বিশ্বরঙের স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার বিপ্লব সাহা জানান, আরামদায়ক ও নরম কাপড়ের সাহায্যে ঢিলেঢালা করে বানানো ঢোল সালোয়ার। বিশ্বরঙে দেশীয় ও পশ্চিমা মিশেলের ঢোল সালোয়ার পাবেন। গরমের কারণে ঢোল সালোয়ারের ফেব্রিকস হিসেবে সুতিকেই প্রাধান্য দিয়েছি। এক রঙের পাশাপাশি স্ক্রিনপ্রিন্ট, ব্লক ও ভেজিটেবল ডাইয়ের ঢোল সালোয়ার পাবেন। এসব সালোয়ারের সঙ্গে মিলিয়ে টপস, শর্ট ও লং কামিজ বেছে নিতে পারবেন। তবে এর সঙ্গে মানানসই টপস, টি-শার্ট, শর্ট শ্রাগ ইত্যাদি পরা যায়। কেউ চাইলে ক্রপটপও পরতে পারেন। বিবিয়ানার স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার লিপি খন্দকার জানান, কয়েক বছর পরপর পোশাকে পুরনো কাট, প্যাটার্ন ফিরে আসে। এখন যেমন ঢোল সালোয়ার পরার আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। বিবিয়ানায় পাওয়া যায় বিভিন্ন ডিজাইনের ঢোল সালোয়ার। এসব সালোয়ারে সুতি ও লিনেন কাপড়ে স্ক্রিনপ্রিন্ট, এমব্রয়ডারি নকশা যোগ করা হয়েছে। এর সঙ্গে মেলানো কামিজও পাবেন।
কারা পরতে পারবেন
ঢোল সালোয়ার প্রায় সব বয়সী নারীর জন্য মানানসই। থাকতে পারে ডিজাইনের ব্যতিক্রমতা। বিশেষ করে যারা একটু আঁটসাঁট পোশাকে অস্বস্তি বোধ করেন, তাদের জন্য খুবই আরামদায়ক। যাদের উচ্চতা একটু বেশি তাদের পছন্দের তালিকায় ঢোল সালোয়ার থাকলেও এখন যাদের উচ্চতা কম তারাও পরছেন। তবে ঘের বা কুচি কম থাকছে। কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, কর্মজীবী নারী এমনকি বাসাতে আরামের পোশাক হিসেবে বেছে নিচ্ছেন কেউ কেউ। বিশেষ করে গর্ভকালীন সময়ে নারীদের জন্য ঢিলেঢালা এই পোশাক বেশ স্বস্তি দেয়। শর্ট কুর্তির সঙ্গে ঢোল সালোয়ার এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় কম্বিনেশন। এ ছাড়া আনারকলি, ফ্রন্ট-সিøট কামিজ, কেপ স্টাইল টপ কিংবা ওভারসাইজ শার্ট ও টি-শার্টের সঙ্গেও এটি মানিয়ে যায়। টিনএজরা এখন ক্রপ টপ ও ছোট জ্যাকেটের সঙ্গেও ঢোল সালোয়ার পরে ফিউশন লুক তৈরি করছেন।
দরদাম কেমন
ঢোল সালোয়ারের দাম নির্ভর করে কাপড় ও ডিজাইনের ওপর। সাধারণ সুতি বা খাদি কাপড়ের সালোয়ার ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। ব্লক প্রিন্ট, বাটিক বা হ্যান্ড পেইন্টের ডিজাইনে দাম হতে পারে ২০০০ থেকে ৩৫০০ টাকা। অন্যদিকে সিল্ক, মসলিন বা ভারী এমব্রয়ডারির ডিজাইনের ক্ষেত্রে দাম ৪৫০০ টাকার বেশি হতে পারে।
দেশের জনপ্রিয় ফ্যাশন হাউজগুলো এবং অনলাইন পেজে নানা ডিজাইনের ঢোল সালোয়ার পাওয়া যায়। কেউ চাইলে অনলাইন পেজগুলো থেকে কাস্টমাইজড করেও তৈরি করে নিতে পারবেন। দর্জিবাড়ি থেকে কাপড় কিনেও তৈরি করা যায়। সে ক্ষেত্রে আড়াই হাত বহরের সাড়ে তিন থেকে চার গজ কাপড় লাগবে।
জেনে রাখুন
খুব বেশি ঘেরযুক্ত সালোয়ার হলে কামিজ ফিটিং
থাকলে লুক ব্যালেন্সড হবে।
উচ্চতা কম হলে খুব ভারী প্রিন্ট এড়িয়ে ছোট মোটিফ বা একরঙা ডিজাইন বেছে নিন।
গরমে সুতি, লিনেন বা খাদি ফেব্রিকসের ঢোল সালোয়ার আরামদায়ক হবে।
দুই ফিতার স্লিপার, কোলাপুরি স্যান্ডেল, নাগরার সঙ্গে ঢোল সালোয়ার দারুণ মানায়।
অক্সিডাইজড গয়না ও মিনিমাল সাজ ভালো লাগবে।
দিনের বেলায় হালকা রঙ এবং রাতের অনুষ্ঠানে গাঢ় রঙ এর ঢোল সালোয়ার বেছে নিলে সাজ আরও আকর্ষণীয় লাগে।
