কাজলের ব্যবহার পাঁচ হাজার বছরের পুরনো। মিশরে প্রথম কাজল ব্যবহার হয়। পরে ইরান ও ভারতের নারীদের রূপচর্চায় কাজল জায়গা করে নেয়। শুরুতে কাজল ‘কোহল’ নামে পরিচিত ছিল।
সুতি কাপড়ের লম্বা ছোট একটা টুকরো পেঁচিয়ে সেটা ঘিয়ে ভেজানো হয়। বের হয়ে থাকা অংশে জ্বালানো হয় আগুন। তারপর ধাতুর পাত্র রশ্মির ওপর ধরে কালি জমানো হয়। সেই কালির ওপর সামান্য পরিমাণে সরিষা তেল আর চন্দন মিশিয়ে তৈরি হয় চমৎকার সুরমা-কাজল। এরপর একটা কাপড়ের টুকরো ভাঁজ করে চিকন করে অথবা তুলা পেঁচিয়ে সেই কাজল ব্যবহার করা হয় চোখে। শুরুতে নারী-পুরুষ সবার কাজল ব্যবহারের চল ছিল। কেননা এই সুরমা চোখের চারপাশে (ওপরে ও নিচের অংশে) দেওয়ার ফলে চোখের চারপাশ ঠান্ডা লাগত। প্রচন্ড গরমের সময় এটি ছিল জনপ্রিয় প্রসাধনী।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কাজলের রূপ ও রঙে এসেছে পরিবর্তন। এখন কাজল রূপ নিয়েছে জেল, পেনসিল, লিকুইড ও স্মাজ-প্রুফ ফরম্যাটে। কাজল এখন শুধু চোখ রাঙানোর উপকরণ নয়, বরং ব্যক্তিত্ব ও সাজের অনন্য অনুষঙ্গ। কালো কাজলের পাশাপাশি তালিকায় যোগ হয়েছে নীল, সবুজ ও ব্রোঞ্জ রঙ। ‘নজরটিকা’ হিসেবেও ব্যবহৃত হয় কাজল। ধারণা করা হয়, কপালের কালো কাজল শিশুকে সূর্যরশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে। এখনো এ অঞ্চলের মানুষ সন্তানকে খারাপ নজর থেকে রক্ষা করার জন্য ভরসা রাখেন কাজলের টিপের ওপর।
