পাহাড়ি খরস্রোতা সোমেশ্বরী নদী আর ‘সাদা মাটি’র সৌন্দর্যের কারণে নেত্রকোনার দুর্গাপুর ভ্রমণপিপাসুদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সীমান্তের পাহাড়ি দৃশ্যও পর্যটকদের মণ কাড়ে। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এখানকার পর্যটন যেন বরাবরই পিছিয়ে। জারিয়া থেকে দুর্গাপুরের দূরত্ব মাত্র ১২ কিলোমিটার। এ পথটুকু রেললাইনের সঙ্গে সংযুক্ত করা গেলেই পর্যটনের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
দীর্ঘদিন ধরে জারিয়া থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের দাবি জানিয়ে আসছেন দুর্গাপুর, কলমাকান্দা ও ধোবাউড়ার কয়েক লাখ বাসিন্দা। দুর্গাপুর-কলমাকান্দার সংসদ সদস্য ও ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালও নির্বাচনের আগে এ দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। প্রতিশ্রুত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আজ বুধবার জারিয়া থেকে দুর্গাপুর এলাকা পরিদর্শনে আসছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তার সঙ্গে আসছেন রেলপ্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, রেলসচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। দুপুর ১২টায় জারিয়া ঝানজাইল রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনের কথা রয়েছে তাদের। এর মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলের বাসিন্দাদের ১১০ বছরের অপূর্ণ স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে।
জানা যায়, ১৯১২ থেকে শুরু হয়ে ১৯১৮ সনে বাণিজ্যিকভাবে শ্যামগঞ্জ থেকে জারিয়া-ঝাঞ্জাইল হয়ে দুর্গাপুরে রেললাইন সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং রেলওয়ের কর্মচারীদের আবাসন নির্মাণের জন্য জায়গা অধিগ্রহণ ও রেললাইন সম্প্রসারণের লক্ষ্যে শুরু হয়েছিল রাস্তা নির্মাণের কাজ। পরে জারিয়া আনসার ক্যাম্পের পাশ দিয়ে রেললাইনটি জারিয়া স্টেশনে পৌঁছার আগেই ৯০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে বাঁক নেয়। ওই বাঁক থেকে সোজা কংস নদ পার হয়ে দুর্গাপুরের দিকে রেল নেওয়ার জন্য মাটিকাটাও শুরু হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের জেরে এটি আর বাবস্তবায়ন হয়নি। স্বাধীনতার পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষও জোরালো কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ হয়নি।
প্রবীণ সংস্কৃতিজন বীরেশ্বর চক্রবর্তী বলেন, স্থানীয় এমপি ও ডেপুটি স্পিকারের একান্ত প্রচেষ্টায় জারিয়া-ঝাঞ্জাইল থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন বাস্তবায়ন হলে তা কেবল যোগাযোগের ক্ষেত্রে নয়; এটি পুরো নেত্রকোনা অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার, পর্যটন বিকাশ ও শিল্পায়নের ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। এতে আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে, পর্যটনসহ এ এলাকার আমূল পরিবর্তন ঘটবে।
ইউএনও আহমেদ সাদাত জানান, ‘দুর্গাপুর উপজেলায় মাত্র তিন দিন হলো যোগদান করেছি। এর মধ্যেই সুসংবাদ পেলাম, দুর্গাপুর সীমান্তবর্তী উপজেলায় রেললাইন সম্প্রসারণ হবে। এ রেললাইন চালু হলে দুর্গাপুর উপজেলা পর্যটনসহ একটি নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠবে।’
