মির্জা ফখরুল বললেন

বিরোধী দল শেখ হাসিনার মতো কথা বলছে

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৪ এএম

‘বিরোধী দল শেখ হাসিনার মতো কথা বলছে’ এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘এখন যে ভাষায় বিরোধী দলের নেতারা কথা বলছেন, এভাবে কথা বলতেন শেখ হাসিনা। আজ একইভাবে আমাদের বিরোধীদলীয় নেতারা কথা বলতে শুরু করেছে।’

গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় আরও বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, ডিইউজের সভাপতি শহীদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলম প্রমুখ।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট চলে যাওয়াতে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ হয়েছে। ইন্টেরিম গভর্নমেন্ট আমরা দিয়েছি। এ দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য তারা চেষ্টা করেছে। সে সময় জুলাই সনদ তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘একটা মহল থেকে বলা হয়েছে বিএনপি নাকি জুলাই সনদ গ্রহণ করছে না। এটা পুরোপুরি একটা ভ্রান্ত ধারণা তৈরি করছে এবং আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই। বিএনপি হচ্ছে সেই দল, যারা সংস্কারের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে গেছে। জোর করে ক্ষমতা দখল করেনি। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করেছে। বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে না, দূরে সরে যাচ্ছে। জুলাই সনদ নিয়ে ভুল বুঝানো হচ্ছে।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘সমস্যা হচ্ছে গণভোট। সেই গণভোটে যে চারটি প্রশ্ন ছিল, সেখানে তিনটা প্রশ্নে তো আমরা একমত হয়েছি। সংবিধান সংস্কার কমিশন, এটা কারও সঙ্গে আলোচনা না করে তারা (ইন্টেরিম গভর্মেন্ট) এটা চাপিয়ে দিয়েছে। এটা জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা। এটা আমরা কখনো মেনে নেইনি। আমরা বারবার বলেছি, এখানে আমরা একমত নই।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা যখন সরকারে এসে জুলাইয়ের ঘোষণার প্রতিটি অংশ স্বাক্ষর করেছি এবং আমরা তা পালন করতে চাই। আমরা কাজ শুরু করেছি এবং ইতিমধ্যে অনেক কাজ হয়েছে। পার্লামেন্টে একটা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখানে শব্দ নিয়ে বিভেদ শুরু হয়েছে। সংস্কার হবে, নাকি সংশোধন হবে।’

বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আসুন আমরা পার্লামেন্টে এটা নিয়ে আলোচনা করি। আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিই। তখন যদি একমত না হন, তাহলে বেরিয়ে যাবেন। কিন্তু এখন যে ভাষায় বিরোধী দল নেতারা কথা বলছেন, এভাবে কথা বলতেন শেখ হাসিনা। আজকে একইভাবে আমাদের বিরোধীদলীয় নেতারা কথা বলতে শুরু করেছে।’

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধী দল অবশ্যই সমালোচনা করবে এবং সরকারের ভুল ধরিয়ে দেবে। তবে, সেটা পার্লামেন্টে হলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ঠিক থাকে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, আবার আগের মতোই শুরু হয়েছে। রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করার চেষ্টা করছে। এটাতে আপত্তি নেই, কারণ এটা গণতান্ত্রিক নীতি। কিন্তু সেটা যেন এমন পর্যায়ে না যায়, যে পর্যায়ে গিয়ে সেটা সংঘাতে রূপ নেয়। এটা অত্যন্ত জরুরি বিষয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি মুহূর্তে মানুষের জন্য কাজ করছেন। তাকে তো আমাদের সহযোগিতা করতে হবে। কিন্তু এখন যদি নেগেটিভ কথা বলে তাকে পেছনে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করি, তাহলে তো সামনে এগিয়ে যেতে সমস্যা হবে। এখানে যদি সারাক্ষণ মারামারি-কাটাকাটি করি, তাহলে দেশ কখনোই সামনে এগিয়ে যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘আজ মিডিয়ার উপর সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই। এটা তো একটা পজিটিভ বিষয়। বেকার সাংবাদিকদের কর্মসংস্থান ব্যবস্থার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমি কথা বলব।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অনেক সমস্যা রয়েছে। আমাদের সহনশীল পর্যায়ে এগিয়ে যেতে হবে। সরকার যাতে ঠিক কাজগুলো করতে পারে, সেজন্য সরকারকে সুযোগ দিতে হবে। সরকারের তো মাত্র ৫ মাস হয়েছে। এর মধ্যে যদি সবকিছু আমরা সঠিক চাই, তাহলে এটা সম্ভব নয়।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে জুলাইয়ে যারা শহীদ হয়েছে, তাদের পরিবার এবং সন্তানদের যেন রাষ্ট্র দেখভাল করে এ ব্যাপারে আমরা নজর দেব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত