ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের দেশ কিউবায় যে কোনো সময় হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাম্প্রতিক মন্তব্য থেকে এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। গতকাল মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি বলেছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিউবার সরকারের ওপর চাপ বৃদ্ধি করছেন। আর তিনি দেশটিতে হামলার যে হুমকি দিচ্ছেন, সেটি বাস্তবে রূপ নিতে পারে। গত তিন মাসে কিউবার আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি বিমানের বিচরণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ‘সিএনএন’-এর নতুন এক বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার অভিযানের আগেও ঠিক একইভাবে দেশটির আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের স্পাই প্লেনের আনাগোনা বেড়েছিল।
১৯৬২ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া) কিউবায় পারমাণবিক মিসাইল মোতায়েন করে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র কিউবার ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করে। নিজেদের ভূখণ্ড থেকে কিউবা কাছে হওয়ায় পারমাণবিক মিসাইল মোতায়েনকে নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে দেখেছিল ওয়াশিংটন। এখন ট্রাম্প যদি দেশটিতে হামলা চালান, তাহলে ১৯৬২ সালের পর দুই দেশের মধ্যে এটি হবে সবচেয়ে বড় দ্বন্দ্ব। গত সপ্তাহে দেশটির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প। এর জবাবে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণহত্যার উদ্দেশ্যে এটি সাধারণ মানুষের ওপর সামগ্রিক শাস্তি। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবরোধের কারণে কিউবার অবস্থা গত কয়েক মাসে অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে। চলতি বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা অপহরণের পর কিউবার অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে পড়ে। কারণ ভেনেজুয়েলা থেকেই নিজেদের চাহিদার বেশিরভাগ তেল পেত দেশটি।
এদিকে উন্মুক্ত বিমান চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, গত ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কিউবার উপকূল বরাবর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ ও বিমানবাহিনীর অন্তত ২৫টি বিমান এবং ড্রোন ট্র্যাক করা গেছে। এই প্যাটার্নটি ভেনেজুয়েলার কথা মনে করিয়ে দেয়। গত ৩ জানুয়ারি ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী দেশটির রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে মাদুরোকে আটক করে। পরে মাদক সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করতে তাকে নিউইয়র্কে নিয়ে আসা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিউবার আকাশে মূলত পি-৮এ পসেইডন মেরিটাইম প্যাট্রল এয়ারক্রাফট ব্যবহার করা হচ্ছে, যা নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া আরসি-১৩৫ভি রিভেট জয়েন্ট এবং এমকিউ-৪সি ট্রাইটন হাই-অলটিটিউড রিকনেসান্স (উচ্চ-উচ্চতার নজরদারি) ড্রোনও দেখা গেছে।
এই ফ্লাইটগুলো মূলত কিউবার রাজধানী হাভানা ও সান্তিয়াগো ডি কিউবার কাছাকাছি এলাকায় দেখা গেছে। কিছু বিমান স্থলভাগের ৪০ মাইলের মধ্যে চলে এসেছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এটি দেশটির কমিউনিস্ট সরকারের জন্য একটি স্পষ্ট হুমকি। সিএনএনের একজন বিশ্লেষক বলেন, উপকূলের একেবারে কাছ দিয়ে উড়ে যাওয়া এ বিমানগুলো কেবল গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের সহজ সুযোগের জন্যই নজর কাড়ছে না; বরং এগুলোর আকস্মিক আবির্ভাব ও সময়কালও প্রশ্ন তুলছে। গত ফেব্রুয়ারির আগে এ এলাকায় দৃশ্যত এমন বিমান উড্ডয়নের ঘটনা ছিল অত্যন্ত বিরল।
