লাইভ ওয়েটে গরু বিক্রি করে আলোচনায় বাগাতিপাড়ার শাহিন

আপডেট : ১৩ মে ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে লাইভ ওয়েট পদ্ধতিতে গরু বিক্রি করে এলাকায় আলোচনায় এসেছেন নাটোরের বাগাতিপাড়ার তরুণ খামারি শাহিনুর রহমান (৩৩)। তুলনামূলক কম দামে কোরবানির গরু বিক্রির ঘোষণা দিয়ে স্থানীয় ক্রেতাদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন তিনি।

শাহিনুর রহমান উপজেলার সদর ইউনিয়নের নুরপুর কলেজপাড়ার বাসিন্দা ও মো. আলাউদ্দিনের ছেলে। নিজ বসতবাড়িতেই ছোট পরিসরে “ফাইম এগ্রো” নামে একটি খামার গড়ে তুলেছেন তিনি। এবারের কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে পরিচর্যার মাধ্যমে দেশীয় ষাঁড় জাতের গরু পালন করছেন এই তরুণ উদ্যোক্তা।

স্থানীয়দের মতে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে তুলনামূলক কম দামে গরু বিক্রির এ উদ্যোগ সফল হলে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য তা স্বস্তির কারণ হবে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ তার খামারে গরু দেখতে আসছেন।

বর্তমানে কোরবানির পশু বিক্রিতে “লাইভ ওয়েট” পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এ পদ্ধতিতে গরুর জীবিত অবস্থার ওজন ডিজিটাল মেশিনে মেপে প্রতি কেজি অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ করা হয়। এতে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের জন্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয় এবং অতিরিক্ত দাম নেওয়ার সুযোগ কমে যায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

খামারি শাহিনুর রহমান জানান, খুব ছোটবেলা থেকেই ব্যক্তিগতভাবে গরু পালনের অভিজ্ঞতা থাকলেও এবারই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে খামার পরিচালনা করছেন তিনি। প্রায় দেড় মাস আগে দিনাজপুরের বিভিন্ন হাট থেকে গৃহস্থদের কাছ থেকে ১৫টি গরু কিনে আনেন। গরু কিনতেই তার প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এছাড়া পরিবহন, খাদ্য ও পরিচর্যায় এই সময়ে আরও প্রায় ১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ যেন কম দামে ভালো মানের গরু কিনতে পারে, সেই চিন্তা থেকেই প্রতি কেজি লাইভ ওয়েট ৫০০ টাকা দরে গরু বিক্রির পরিকল্পনা করেছি।

বর্তমানে এই অঞ্চল থেকে ঢাকার অনেক খামারি যেখানে সাড়ে ৫০০ টাকা বা তারও বেশি দামে বিক্রি করছেন, সেখানে তিনি কম দামে দিতে চাইছেন। 
গরুর পরিচর্যা বিষয়ে শাহিন জানান, তার খামারের গরুগুলোতে কোনো ধরনের ক্ষতিকর ইনজেকশন পদ্ধতি বা কোনো রকম ফিড জাতীয় খাদ্য ব্যবহার করেনি। প্রাকৃতিক ঘাস, গমের ভুসি ও চিটাগুড় খাইয়ে গরু লালন-পালন করছেন তিনি। আসন্ন কোরবানির ঈদে প্রায় ২০ লাখ টাকায় গরুগুলো বিক্রির আশা করছেন তিনি। এ বছর ছোট পরিসরে শুরু করলেও আগামীতে আরও বড় পরিসরে খামার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে তার। 

উপজেলার রহিমানপুর এলাকার রান্টু বলেন, এখন বাজারে গরুর দাম অনেক বেশি। শাহিন যদি সত্যিই কম দামে লাইভ ওয়েটে গরু বিক্রি করতে পারে, তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য এটা অনেক ভালো উদ্যোগ হবে। তিনি তার খামার থেকে গরু নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে জানান।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম সরোয়ার চাঁদ বলেন, খামারে গিয়ে দেখেছি গরুগুলো প্রাকৃতিকভাবে পালন করা হচ্ছে। দামও তুলনামূলক কম রাখা হয়েছে। এতে মানুষ প্রতারিত হওয়ার ভয় কম থাকবে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আব্দুল্লা বলেন, লাইভ ওয়েট পদ্ধতিতে গরু বিক্রি একটি স্বচ্ছ ও আধুনিক ব্যবস্থা। এতে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে পারেন। প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণ স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ। তরুণ উদ্যোক্তারা এ ধরনের উদ্যোগ নিলে প্রাণিসম্পদ খাত আরও এগিয়ে যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত