আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জমে উঠতে শুরু করেছে ভোলার কুরবানির পশুর হাট। খামারি ও কৃষকদের ব্যস্ততায় এখন সরগরম গ্রামের পর গ্রাম। এরই মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বিশাল আকৃতির দেশীয় গরু ‘জমিদার’। কৃষকের স্বপ্ন আর দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে দেশীয় খাবারে বড় হয়ে ওঠা এই গরুটি এবার কুরবানির হাটে আকর্ষণের কেন্দ্র হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক মোহাম্মদ আলী মাল তার খামারে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রায় দুই বছর ধরে লালন-পালন করা বিশাল আকৃতির গরু ‘জমিদার’কে ঘিরে এলাকাজুড়ে চলছে আলোচনা।
খামারি মোহাম্মদ আলী মাল জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। গত এক যুগ ধরে প্রতিবছর কুরবানির জন্য বড় বড় গরু প্রস্তুত করছেন। এবার তার খামারে মোট ছয়টি গরু রয়েছে। গরুগুলোর নাম রাখা হয়েছে— জমিদার, বাহাদুর, বাদশা, রাজা, কালাচাঁদ ও লালচাঁদ। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ও আকর্ষণীয় গরুটি হলো ‘জমিদার’।
তিনি বলেন, ‘জমিদারের উচ্চতা প্রায় ছয় ফুট এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ ফুট। ওজন হবে প্রায় ১৫ থেকে ১৭ মণ। প্রায় দুই বছর আগে এক লাখ ৪০ হাজার টাকায় গরুটি কিনেছিলাম। এখন চার লাখ টাকা দাম পেলেই বিক্রি করব।’
খামারি আরও জানান, গরুগুলোকে সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজা করা হয়েছে। প্রতিদিন কাঁচা ঘাস, গম ও ভুট্টা ভাঙা, খৈল, ভূষিসহ বিভিন্ন সুষম দানাদার খাবার খাওয়ানো হয়। তবে ‘জমিদার’ অন্য গরুর তুলনায় অনেক বেশি খাবার খায় বলেই তার নাম রাখা হয়েছে জমিদার।
তিনি বলেন, ‘গত ছয় মাস ধরে জমিদারকে প্রতিদিন সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় প্রায় ২০ থেকে ২২ কেজি খাবার দেওয়া হচ্ছে। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরুটিকে বড় করেছি।’
খামারির ছেলে জিহাদ মাল বলেন, ‘ভোলা সদর উপজেলায় এত বড় ও পরিপুষ্ট দেশীয় গরু খুব কমই আছে। কুরবানির হাটে ‘জমিদার’ উঠালে সবার নজর কাড়বে।’
এদিকে বিশাল আকৃতির গরুটি দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ খামারে আসছেন। স্থানীয়দের অনেকেই গরুটিকে ঘিরে ছবি তুলছেন এবং আগ্রহ নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন।
ভোলা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা খামারিদের সবসময় দেশীয় ও প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজা করার পরামর্শ দিয়ে থাকি। ‘জমিদার’ নামের গরুটিও দেশীয় খাবার খেয়ে স্বাস্থ্যকরভাবে বড় হয়েছে। আশা করছি, খামারি ভালো দাম পাবেন।’
১০ বছর পর চীনের মাটিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প