চট্টগ্রাম শহরে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবার জলাবদ্ধতা দুর্ভোগ কম হবে। গত বছর জলাবদ্ধতার ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ উন্নতি হলেও এবার তা ৮০ শতাংশে উন্নীত হবে। বৈশাখের বৃষ্টি আমাদের উপকার করে দিয়ে গেছে। বর্ষার আগেই আমরা বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করে দিয়েছি এবং এর সুফলও পাওয়া যাবে। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মিলনায়তনে জলাবদ্ধতা নিরসনে গঠিত ১৯ সদস্যের মনিটরিং কমিটির প্রথম সভায় এ কথা বলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
সভাশেষে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের উদ্দেশে সিটি মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম শহরে আগে যে পরিমাণ জলাবদ্ধতা দুর্ভোগ হয়েছে, ২০২৫ সালে তা হয়নি। আর এরই ধারাবাহিকতায় এবার আরও কমে আসবে। আমরা দেখেছি, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের এক মেয়রের বাড়ি ছিল বহদ্দারহাটে। বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতার কারণে বাড়ি থেকে বের হতে পারেননি। পরে বৃষ্টি কমলে লোকজনের সহায়তায় তিনি বের হয়ে আসেন।
চট্টগ্রাম শহরে এখন সেই অবস্থা নেই। জলাবদ্ধতার অনেক উন্নতি হয়েছে।
চসিক মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতার অন্যতম একটি সমস্যা হচ্ছে খালের মধ্যে ময়লা-আবর্জনা নিক্ষেপের মাধ্যমে নালা-খাল ভরাট করে ফেলা। মানুষ যাতে নালায় ময়লা-আবর্জনা ফেলতে না পারে, সে জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে ফুটপাতের ব্যবসায়ীরাও তাদের ব্যবহার্য আবর্জনা পাশের নালাগুলোতে ফেলে নালা ভরাট করে ফেলে। এগুলোও বন্ধ করতে হবে।
গৃহস্থালির আবর্জনা সংগ্রহে হয়তো আবারও ডোর টু ডোর বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করা হতে পারে উল্লেখ করে ডা. শাহাদাত বলেন, নগরীতে দিনে ৩২০০ টন আবর্জনা হয়ে থাকে। এর মধ্যে আমরা ২২০০ টন সংগ্রহ করি এবং বাকি ১০ হাজার টনের মধ্যে ৫০০ থেকে ৭০০ টনও যদি ডোর টু ডোরের মাধ্যমে সংগ্রহ করা যায়, তাহলে সংগ্রহের বাইরে থাকবে মাত্র ৩০০ টন বর্জ্য। কিন্তু এখন ডোর টু ডোরের মাধ্যমে বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এবা এক হাজার টনের পুরোটাই সংগ্রহের বাইরে থাকছে। এসব বর্জ্য গিয়ে নালা ও খাল ভরাট করে ফেলছে।
বৈশাখের বৃষ্টি আমাদের উপকার করে দিয়ে গেছে। বৈশাখে সাধারণত এত ভারী বৃষ্টি হয় না। সেদিন (২৮ এপ্রিল) বৃষ্টি হওয়ায় এবং এতে কিছু সময়ের জন্য কয়েকটি এলাকায় পানি জমায় তা নিয়ে সংসদেও আলোচনা হয়েছে।
এতে প্রধানমন্ত্রীও মনিটরিং করছেন এবং আগামী শনিবার অর্থমন্ত্রী ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী নগরীর জলাবদ্ধতার কাজ দেখতে আসবেন। তাই বলা যায়, বৈশাখের বৃষ্টি একদিকে আমাদের উপকার করে দিয়ে গেছে। আমাদের মনিটরিং কমিটি যেমন কাজ শুরু করেছে এবং নালা-খাল পরিষ্কারের কাজও চলছে। তাই এবার জলাবদ্ধতা ৮০ শতাংশ কমে আসতে পারে।
এ সময় সভায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ডিভিশনের ব্রিগেড কমান্ডার, জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনীর প্রকল্প পরিচালক, সিডিএর প্রকল্প পরিচালকসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
