টানা বৃষ্টিতে ধানের বিচালির সংকট

আপডেট : ১৪ মে ২০২৬, ০৮:০১ এএম

ঝিনাইদহে জেলার ছয় উপজেলায় চলমান বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ধানের বিচালি সংগ্রহ করতে পারছেন না কৃষকরা। মাঠে কাটা ধান শুকাতে না পারায় বিচালি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে জেলায় দেখা দিয়েছে গোখাদ্যের সংকটের আশঙ্কা। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন গরু পালনকারী খামারি ও প্রান্তিক কৃষকরা।

জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক কৃষক বোরো ধান কাটলেও টানা বৃষ্টির কারণে তা ঠিকমতো শুকাতে পারছেন না। ধানের খড় ভিজে যাওয়ায় বিচালি কালো হয়ে নষ্ট হচ্ছে। অনেক স্থানে মাঠেই পড়ে আছে ধান ও খড়। শুকানোর সুযোগ না থাকায় কৃষকরা বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করছেন কিংবা ফেলে রাখছেন।

সদর উপজেলার কৃষক কালিমুল্লাহ বলেন, ‘বৃষ্টি না থামায় ধান শুকাতে পারছি না। খড় সব ভিজে গেছে। গরুর খাবারের জন্য যে বিচালি রাখব, সেটাও নষ্ট হওয়ার উপক্রম।’

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠজুড়ে পাকা ধানের সমাহার। চলতি বোরো মৌসুমে ধানের ফলনও ভালো হয়েছে। তবে বৃষ্টির বিড়ম্বনায় বিপাকে পড়েছেন কৃষক। সদর উপজেলার হামুদর বিল, রাজারামের বিল, ভবানীপুর-রামনগর মাঠ, মহারাজপুর মাঠ, বৈডাঙ্গা, রাঙ্গিয়ারপোতা মাঠের নিচু জমিতে জমে গেছে বৃষ্টির পানি। এ ছাড়া জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার রায়গ্রাম, জামাল, কোলা, নিত্যানন্দপুর, আগমুন্দিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার মাঠের চিত্র প্রায় একই। মহেশপুর ও হরিণাকু-ু উপজেলার অধিকাংশ ধানি ফসলের মাঠে নিচু জমিতে জমে গেছে বৃষ্টির পানি। ভিজে গেছে কেটে রাখা ধান। অনেকের ধান মাঠে অঙ্কুরিত হয়ে গেছে। ফলে অঙ্কুরিত ধানের দামও পাচ্ছেন না কৃষক।

হরিণাকুন্ডু উপজেলার খামারি ইজল হোসেন বলেন, ‘গত বছর যে পরিমাণ বিচালি পাওয়া গেছে, এবার তার অর্ধেকও মিলছে না। বাজারে বিচালির দাম বাড়তে শুরু করেছে। সামনে গরুর খাবার নিয়ে বড় সংকট হতে পারে।’

কালীগঞ্জ উপজেলার বহেরগাছি গ্রামের কৃষক তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ধান নিয়ে কৃষকের কষ্টের শেষ নেই। শ্রমিক নেই, শ্রমিক পেলেও মজুরি বেশি। বাজারে ধান নিয়ে গেলে দাম পাওয়া যাচ্ছে না। ধান বিক্রি করে কৃষকের শুধু খরচের টাকা ওঠে। কিন্তু ধানের খড় বা বিচালি পাওয়া গেলে ওই টাকাটাই লাভ থাকে। এবার আর বিচালি হবে বলে মনে হচ্ছে না।’

কৃষিসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৃষ্টির কারণে শুধু ধান নয়, পশুখাদ্যের বড় একটি উৎসও ক্ষতির মুখে পড়েছে। সাধারণত বোরো মৌসুমে কৃষকরা সারা বছরের জন্য বিচালি সংরক্ষণ করেন। কিন্তু এবার আবহাওয়ার কারণে সেই সুযোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহে ছোট-বড় মিলিয়ে হাজার হাজার গবাদিপশু রয়েছে। এসব পশুর প্রধান খাবারের একটি হচ্ছে ধানের বিচালি। সংকট তৈরি হলে খামারিদের অতিরিক্ত দামে বিকল্প খাদ্য কিনতে হবে, যা উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেবে।

ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. কামরুজ্জামান বলেন, এ বছর ধান কাটা শুরু হওয়ার পর থেকে মাঝে মাঝে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে কৃষকদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। অনেকেই ধানের শিষ কেটে নিচ্ছেন। জেলার সব মাঠেই কম্বাইন্ড হারভেস্টর ধান কাটার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। আবহাওয়ার তথ্য প্রদান, মাইকিংসহ নানা রকম কাজ চলমান রয়েছে। কৃষকরা এবার হয়তো বিচালি কম পাবে। তবে অনেক কৃষক এখনো বিচালি পাওয়ার জন্য ধান না কেটে আবহাওয়া ভালো হওয়ার অপেক্ষা করছেন। এদিকে বাজারে ইতিমধ্যে বিচালির দাম বাড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কয়েক দিন আগেও প্রতি আঁটি বিচালি যে দামে বিক্রি হয়েছে, বর্তমানে তার চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন খামারিরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত