নয়াদিল্লিতে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

‘যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আমাদের কোনো আস্থা নেই’

আপডেট : ১৬ মে ২০২৬, ০৫:০০ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তেহরানের কোনো আস্থা নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন যদি স্থায়ী চুক্তির বিষয়ে আন্তরিকতা দেখায়, তবেই কেবল তেহরান তাদের সঙ্গে আলোচনা টেবিলে বসতে আগ্রহী। বর্তমানে ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফরে রয়েছেন আব্বাস আরাগচি। শুক্রবার (১৫ মে) নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দুই দেশের চলমান কূটনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এই মন্তব্য করেন।

বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘খুবই জটিল’ বলে উল্লেখ করেছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার রক্ষক হিসেবে ইরান সব সময় তার ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করবে।

আরাগচি জানান, যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের সংঘাত বা যুদ্ধে লিপ্ত নয়, তারা ইরানের নৌবাহিনীর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারবে। এর আগে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট উৎপাদিত জ্বালানি তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

গত মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও স্থায়ী শান্তিচুক্তি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে দুই পক্ষই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। গত সপ্তাহে উভয় পক্ষ একে অপরের প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়ার পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলা আলোচনাটি সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে। 

এ বিষয়ে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসা সাংঘর্ষিক বার্তার কারণে তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে তেহরানের মনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার এই প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়নি, বরং এটি এখন একটি অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ইরান কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ দিতে বর্তমান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তবে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তেহরান প্রস্তুত রয়েছে। মূলত দুই পক্ষের আলোচনার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ।

আরাগচির এই বক্তব্যের কিছু সময় আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে এক ফোনালাপে হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে দেওয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করা হয়।

চীনের এই সম্ভাব্য মধ্যস্থতার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেইজিংয়ের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, ‘চীনের সঙ্গে আমাদের খুব ভালো এবং কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। আমরা জানি তাদের উদ্দেশ্য ইতিবাচক। তাই কূটনীতিতে সহায়তা করতে তারা যেকোনো পদক্ষেপ নিলে তা আমরা মূল্যায়ন করব।’

আরাগচি আশা প্রকাশ করেন যে, আলোচনার অগ্রগতির মাধ্যমে একটি টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এর ফলে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি নিরাপদ হবে এবং সেখানে দ্রুত বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত