জাতীয় অ্যাথলেটিকসে আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করলেন দেশের দুই পরিচিত স্প্রিন্টার ইমরানুর রহমান ও শিরিন আক্তার। রবিবার রাজধানীর জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় পুরুষের ১০০ মিটারে ইমরানুর এবং নারীদের ১০০ মিটারে শিরিন দ্রুততম মানব ও মানবীর খেতাব জয় করেন। তবে তাদের সাফল্যের মধ্যেও দেশের অ্যাথলেটিকসের স্থবিরতা ও নতুন প্রতিভার সংকট স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
পুরুষের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ১০.৫৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্রুততম মানবের মুকুট অক্ষুণœ রাখেন ইংল্যান্ডপ্রবাসী অ্যাথলেট ইমরানুর রহমান। জাতীয় ও সামার মিট মিলিয়ে এটি তার ষষ্ঠ শিরোপা। তার এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি ইমরানুরকে ক্রীড়া ভাতার আওতায় আনার ঘোষণাও দেন।
শিরোপা ধরে রাখলেও নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন ইমরানুর। কারণ ২০২৩ সালে লন্ডনের একটি আমন্ত্রণমূলক প্রতিযোগিতায় তিনি ১০.১১ সেকেন্ড সময় নিয়েছিলেন, যা এখনো তার ক্যারিয়ারসেরা টাইমিং। এবারের প্রতিযোগিতায় সময় কিছুটা বেশি হওয়ায় তিনি বলেন, ‘সব সময় ভালো টাইমিং আসে না। আমি আরও ভালো করতে পারি।’ সামনে এশিয়ান গেমস-কে লক্ষ্য করে তিনি জানান, উন্নত অনুশীলনের সুযোগ পেলে ভালো ফল করা সম্ভব।
মেয়েদের বিভাগে গত সামার অ্যাথলেটিকসের হতাশা কাটিয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর শিরিন আক্তার। ১২.১০ সেকেন্ড সময় নিয়ে নিজের হারানো মুকুট পুনরুদ্ধার করে আবারও দেশের দ্রুততম মানবী হয়েছেন তিনি। অন্যদিকে গতবারের চ্যাম্পিয়ন সুমাইয়া আক্তার টাইমিংয়ে পিছিয়ে পড়ে এবার চতুর্থ স্থান অধিকার করেছেন।
এই জয়ের মাধ্যমে শিরিন তার ক্যারিয়ারের ১৭তম দ্রুততম মানবীর শিরোপা জিতলেন। সেই সঙ্গে তিনি স্পর্শ করলেন দেশের সাবেক ট্র্যাক রানী নাজমুন নাহার বিউটির ১৭ বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ঐতিহাসিক রেকর্ড। আজ গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে শিরিনের এই অনন্য কীর্তি স্বচক্ষে দেখেন বিউটি নিজে এবং সাবেক এই কৃতী স্প্রিন্টার শিরিনকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আবেগঘন সাফল্যের পর মিশ্র অনুভূতি প্রকাশ করে শিরিন জানান, ‘মনে হয় বিয়ে আমার জন্য সৌভাগ্য বয়ে এনেছে।’ তিনি জানান, তার স্বামী বিমান বাহিনীর হয়ে বাস্কেটবল খেলেন এবং অনুশীলনে সবসময় তাকে সহযোগিতা করেন। ঈদের সময় পাবনায় শ্বশুরবাড়িতে থেকেও নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে গেছেন তিনি।
খেলাধুলার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে দেশের বাইরে পিএইচডি করার ইচ্ছার কথাও জানান যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী।
তবে দুই তারকার সাফল্যের আড়ালে দেশের অ্যাথলেটিকসের দুর্বলতাও স্পষ্ট হয়েছে। নতুন কোনো স্প্রিন্টারের উত্থান না হওয়া এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতির অভাব বাংলাদেশের অ্যাথলেটিকসকে এখনো সীমাবদ্ধ করে রেখেছে।
