মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ভারতে বিক্ষোভের সময় গালিগালাজ করা তরুণ বা শিক্ষার্থীদের ক্ষমার বার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত শুক্রবার রাতে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, তাদের সাজা দেওয়া কিংবা বারবার আদালতে হাজিরা দিতে বাধ্য করা চলমান পরিস্থিতি সমাধানে কোনো কাজে আসবে না। তিনি ওই শিক্ষার্থীদের ‘ভুল পথে পরিচালিত ছেলে-মেয়ে’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেনÑ তাদের শাস্তি নয়, সঠিক পথ দেখানো প্রয়োজন। ভিডিও বার্তায় মোদি জানান, বিক্ষোভে তাকে এবং তার প্রয়াত মাকে ‘অশালীন ভাষায়’ আক্রমণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের সংস্কৃতির জন্য এটি ধাক্কার বিষয় যে, আমাদের মেয়েরা কীভাবে এমন ভাষা ব্যবহার করতে পারে। আমি তাদের ক্ষমা করতে চাই। আশা করি সমাজও আমার এই অবস্থানকে গ্রহণ করবে’।
নরেন্দ্র মোদির তৃতীয় মেয়াদের সরকার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়ে জুলাই মাসে। জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা সামনে আসার পর প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে আবার পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হয়। এ ঘটনায় ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) ব্যানারে দিল্লির যন্তর মন্তরে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে। বিক্ষোভ চলাকালে বেশ কয়েকটি জায়গায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ এবং প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর সেøাগান দেওয়ার অভিযোগে প্রশাসন শত শত আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে মামলা করে। টানা ৩৬ দিন আন্দোলন চলার পর ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারসহ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব পুলিশ মামলা প্রত্যাহারের দাবি মেনে নেয় সরকার। এর পর আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করা হয়। তবে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সিজেপি গত সোমবার বলেছে, মামলা প্রত্যাহারে সরকারের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও বিভিন্ন রাজ্যে এখনো ‘শত শত’ শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার ও আইনি হেনস্তার মুখোমুখি হচ্ছেন।
এদিকে, নরেন্দ্র মোদির ক্ষমার বার্তার পর তার উদ্দেশে প্রশ্ন তুলেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রধান অভিজিৎ দীপকে। তিনি জানতে চেয়েছেনÑ প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা শুধু ক্যামেরার জন্য কি না, নাকি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলাও প্রত্যাহার করা হবে। মোদির ওই বার্তার প্রতিক্রিয়ায় গতকাল শনিবার অভিজিৎ দীপকে এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রাখেনÑ ‘শুধু রিলেই ক্ষমা করবেন, নাকি মামলাও তুলে নেবেন? আন্দোলন প্রত্যাহারের পর মোদির সমর্থকদের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে নারী বিক্ষোভকারীদের, এমনকি কিশোরীদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করে হয়রানি, ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী রাধিকা কুমার বলেন, রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো কঠোর ব্যবস্থার বিষয়ে মোদি নীরব। উল্টো তিনি এখন নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে তুলে ধরছেন। শিক্ষার্থীদের এই নজিরবিহীন আন্দোলনের মুখে প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে মোদি সরকার। পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনা ও শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিদ্যমান আইন সংশোধনে ইতিমধ্যে পার্লামেন্টে একটি নতুন বিল আনা হয়েছে। প্রস্তাবিত এই বিলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড এবং চড়া জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
