কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে উঠে আসা সন্দেহভাজন সাবেক সেনাসদস্য শাহিন আলম দেশ ছেড়ে কুয়েতে পালিয়েছেন বলে জানা গেছে। মামলার তদন্তে গতি আসার পরই তিনি দেশত্যাগ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি।
শাহিন আলম কুমিল্লা সেনানিবাসের ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নের সদস্য ছিলেন। চাকরিতে অল্প সময় কাটানোর পর তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন। পরে নিজ উপজেলা কুমিল্লার বুড়িচংয়ের গোবিন্দপুর এলাকায় গড়ে তোলেন গরুর খামার ও গোখাদ্যের ব্যবসা। তার প্রতিষ্ঠানের নাম ছিল ‘মেসার্স সুমাইয়া এগ্রো’। বর্তমানে দোকানটি বন্ধ রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
তনু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরীকুল ইসলাম সম্প্রতি কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ১ নম্বর আমলি আদালতে যে তিনজন সাবেক সেনাসদস্যের নাম জমা দিয়েছেন, সেখানে শাহিন আলমের নামও রয়েছে। আদালত তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের অনুমতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সেনাবাহিনী থেকে অবসরের কারণ হিসেবে শাহিন আলম এলাকায় ‘শারীরিকভাবে আনফিট’ হওয়ার কথা প্রচার করতেন। গোবিন্দপুরে গোমতী নদীপাড় এলাকায় তিনি একটি বড় গরুর খামার পরিচালনা করতেন। সেখানে ১০টির বেশি গরু ছিল। পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে গোখাদ্যের দোকানও চালাতেন। তার বাবা সরদার ফরিদ উদ্দিন গোবিন্দপুর খেয়াঘাটের মাঝি ছিলেন। পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে শাহিন আলম বড়। তার এক ভাই ব্যাংকে চাকরি করেন এবং আরেক ভাই কুমিল্লা ভূমি অফিসে সার্ভেয়ার হিসেবে কর্মরত আছেন।
জানা গেছে, শাহিন আলমের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বর বর্তমানে বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নম্বর দুটির সর্বশেষ অবস্থান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় শনাক্ত হয়েছিল। এরপর আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
গত ২১ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরীকুল ইসলাম আদালতের কাছে শাহিন আলমের বিদেশযাত্রা ও দেশে ফেরার তথ্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় নজরদারির অনুমতি চান।
তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরীকুল ইসলাম বলেন, সন্দেহভাজন শাহিন আলমের অবস্থান সম্পর্কে আমরা এখনো শতভাগ নিশ্চিত নই। নিশ্চিত হতে পারলে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানানো হবে। তদন্তে বড় ধরনের অগ্রগতি নিয়েই আমরা কথা বলতে চাই।
সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে তনু হত্যা মামলা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর শাহিন আলমের নাম আলোচনায় আসে। এরপর এলাকায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
২০১৬ সালে তনু হত্যার পর ব্যাপক আন্দোলনের মুখে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত শুরু করলেও নিহতের পরিবারের অভিযোগ ছিল, তদন্তে মূল সন্দেহভাজনদের বাইরে রেখে অপ্রাসঙ্গিক ব্যক্তিদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বরাবরই অভিযোগ করে আসছেন, সেনানিবাসের ভেতরে হত্যাকাণ্ড ঘটলেও তদন্তে সেনাসংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজনদের গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
ইয়ার হোসেন বলেন, আমি বারবার কয়েকজনের নাম বলেছি। কিন্তু তাদের কাউকেই সামনে আনা হয়নি। ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করা হয়নি। অথচ আমার মেয়ের নাট্যদলের ছেলেদের পর্যন্ত হয়রানি করা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালে অন্তত ১৩ জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডির ডিএনএ ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষক নুসরাত ইয়াসমিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ব্যক্তিদের কারও ডিএনএর সঙ্গে তনুর পোশাকে পাওয়া আলামতের মিল পাওয়া যায়নি। নমুনা দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের সদস্যরাও ছিলেন।
তনুর বাবা সে সময় অভিযোগ করেছিলেন, আমার মেয়েকে সেনানিবাসের ভেতরে হত্যা করা হয়েছে। অথচ তদন্তে বাইরের লোকদের নমুনা নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ পাওয়া ডিএনএ প্রতিবেদনে তার সেই অভিযোগের আংশিক প্রতিফলন দেখা গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
পশ্চিমবঙ্গে কোরবানির বাজারে হাহাকার, নেই ক্রেতা
কুয়াকাটা সৈকতে ১৬৩টি কচ্ছপের বাচ্চা উদ্ধার