ভোলায় মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে পানিতে ডুবে ও সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একের পর এক এমন দুর্ঘটনায় পুরো জেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিশুদের স্বজনের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকা।
জানা যায় রবিবার (১৭ মে) ভোলা সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুকুরের পানিতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু হয়। শিশুরা হলো- পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. আকবর হোসেনের ১৬ মাস বয়সী ছেলে মো. তাকরিম, আলীনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাহাদাতের ৪ বছর বয়সী ছেলে আজমাইন এবং ভেলুমিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. দুলালের ১৮ মাস বয়সী মেয়ে তাসফিয়া।
শিশু তাকরিমের বাবা মো. আকবর হোসেন জানান, দুপুরের দিকে পরিবারের সদস্যরা ঘরের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় তাকরিম সবার অগোচরে ঘর থেকে বের হয়ে যায়। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর বাড়ির পাশের পুকুরে তাকে ভাসতে দেখা যায়। দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সন্তান হারিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
আজমাইনের বাবা শাহাদাত বলেন, ছেলে বাড়ির উঠানে খেলাধুলা করছিল। কিছুক্ষণ পর তাকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সবাই খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পাশের পুকুর থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর জানতে পারি আমার ছেলে আর বেঁচে নেই। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
অন্যদিকে তাসফিয়ার বাবা মো. দুলাল বলেন, মেয়েটি দুপুরে ঘরের সামনে খেলছিল। হঠাৎ করেই তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে বাড়ির পাশের পুকুরে ভাসতে দেখে দ্রুত উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ছোট্ট মেয়েটিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বলে জানান তিনি।
স্বজনরা জানান, দুপুর ১২টা থেকে ২টার মধ্যে শিশু তিনটি পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বসতঘর থেকে বের হয়ে যায়। পরে দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরে তাদের ভাসতে দেখা যায়। উদ্ধার করে দ্রুত ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিন শিশুকেই মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে সোমবার (১৯ মে) দুপুরে আরও দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের চর আনন্দ পাট-২ এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. হাবিবুর রহমান ও মোসাম্মৎ ফারজানা বেগমের ৬ বছর বয়সী ছেলে মো. আফনাফ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, খেলতে বের হওয়ার পর সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয় আফনাফ। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অপরদিকে বড় চরসামাইয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. রিয়াজ ও আসমা বেগমের কন্যা সন্তান তাসফিয়া পানিতে পড়ে মারা যায়। পরিবারের সদস্যরা জানান, খেলাধুলার একপর্যায়ে সবার অগোচরে পানিতে পড়ে যায় শিশুটি। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাগুলোতে নিহত শিশুদের পরিবারে শোকের মাতম চলছে। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন ঘটনায় শিশু মৃত্যুর বিষয়গুলো অত্যন্ত দুঃখজনক। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। তিনি শিশুদের নিরাপত্তায় অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
