ট্রাম্পকে রুখতে সিনেটে প্রস্তাব পাস

আপডেট : ২১ মে ২০২৬, ০২:১৮ এএম

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সহসাই স্থায়ী শান্তি চুক্তির কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তায় যখন ফের যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা বাড়ছে, তখন ট্রাম্পের নতুন হামলা রুখতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। হোয়াইট হাউজের বিরোধিতা সত্ত্বেও যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রায় তিন মাস পর ডেমোক্র্যাটদের আনা এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন চারজন রিপাবলিকান সিনেটরও। গত মঙ্গলবার সিনেটে ৫০-৪৭ ভোটের এই ফলাফলকে ডেমোক্র্যাটদের জন্য একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রস্তাবটির পক্ষে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যোগ দেন, রিপাবলিকান সিনেটর র‌্যান্ড পল, সুসান কলিন্স, লিসা মুরকোস্কি এবং বিল ক্যাসিডি। তবে ডেমোক্র্যাট দলের জন ফেটারম্যান এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। এটি ট্রাম্পকে এমন একটি যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করার প্রথম পদক্ষেপ, যার জন্য তিনি কখনোই কংগ্রেসের অনুমতি নেননি।

রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি বলেন, তিনি ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধের সমর্থক হলেও হোয়াইট হাউজ এবং পেন্টাগন যুদ্ধ নিয়ে কংগ্রেসকে অন্ধকারে রেখেছে। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, লুইজিয়ানার মানুষ, এমনকি ট্রাম্পের সমর্থকরাও এই যুদ্ধ নিয়ে উদ্বিগ্ন। প্রশাসন স্পষ্ট তথ্য না দেওয়া পর্যন্ত কংগ্রেসের কোনো অনুমোদন বা যুদ্ধের মেয়াদ বৃদ্ধি সমর্থন করা যায় না। সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, এই প্রেসিডেন্ট একজন শিশুর মতো, যে কি না একটি লোড করা বন্দুক নিয়ে খেলছে। ইরান থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তাব সমর্থনের এটাই উপযুক্ত সময়।

১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ার রেজল্যুশন’ অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া কোনো সংঘাত শুরু করলে ৬০ দিনের মধ্যে সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে সরিয়ে নিতে হয়। ট্রাম্পের ক্ষেত্রে গত ১ মে এই সময়সীমা পার হয়ে গেছে। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ‘শত্রুতা বন্ধ হয়েছে’, যদিও ইরানের ওপর এখনো ওয়াশিংটনের নৌ-অবরোধ বলবৎ রয়েছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কেইন বলেন, যুদ্ধবিরতির এই সময়টিই যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে বিতর্কের সঠিক সময়।

জরিপ বলছে, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কাছে অত্যন্ত অজনপ্রিয়। ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস-সিয়েনা’র সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৬৪ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার মনে করেন যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল, যেখানে মাত্র ৩০ শতাংশ ট্রাম্পকে সমর্থন করেছেন। তবে এই প্রস্তাবটি আইনে পরিণত হতে আরও বেশ কিছু ধাপ অতিক্রম করতে হবে। হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে এটি পাস হতে হবে এবং ট্রাম্প নিশ্চিতভাবেই এতে ‘ভেটো’ দেবেন। সেই ভেটো কাটাতে হলে দুই কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন, যা অত্যন্ত কঠিন। সিনেটর টিম কেইন মনে করেন, প্রতিটি ভোটের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের কাছে এই বার্তা পৌঁছাবে যে জনগণ এই যুদ্ধ পছন্দ করছে না। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট তার জনপ্রিয়তার বিষয়ে পৃথিবীতে অন্য সবার চেয়ে বেশি সচেতনআর এটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

হরমুজ পেরোল ৫টি জাহাজ

৪০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল নিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ ও অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে এসেছে চীনের দুটি সুপারট্যাংকার। ইরান যুদ্ধের কারণে এ দুটি সুপারট্যাংকার দুই মাসের বেশি পারস্য উপসাগরে আটকে ছিল। জাহাজ চলাচল-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান এলএসইজি এবং কেপলারের তথ্যের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, চীনা সুপারট্যাংকারের একটির নাম ইউয়ান গুই ইয়াং; অন্যটি ওশান লিলি। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ৬০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে গতকাল আরও দুটি সুপারট্যাংকার বেরিয়ে গেছে, আরেকটি বের হওয়ার পথে রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত