বাজারে অবৈধ ইলিশের ছড়াছড়ি

আপডেট : ২২ মে ২০২৬, ০৮:৩৭ এএম

সমুদ্রে ইলিশ ধরায় ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলছে। উপকূলজুড়ে জোরদার রয়েছে প্রশাসনের অভিযানও। অথচ সেই সময়েই বরিশাল মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে দেখা মিলছে গভীর সমুদ্রের ‘ফিশিং বোটের’ ইলিশ। নিষিদ্ধ সময়ে এসব মাছ কীভাবে মোকামে পৌঁছাচ্ছে, কারা আনছে এবং নজরদারির ফাঁক কোথায় তা নিয়ে সচেতন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উঠেছে নানা প্রশ্ন।

ইলিশ মাছের অবাধ প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বঙ্গোপসাগরে গত ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হয় ৫৮ দিনের মৎস্য আহরণ নিষেধাজ্ঞা। এ নিষেধাজ্ঞা চলবে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত। কিন্তু সেই আবহেই বরিশালের মোকামে গভীর সমুদ্রের মাছ প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে কার্যত কোনো তদারকি নেই।

মৎস্য সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সরকারি অভিযানের কারণে পাথরঘাটা, কুয়াকাটার মহিপুর-সহ উপকূলবর্তী অঞ্চলে এখন ফিশিং বোটের ইলিশ সহজে বিক্রি করা যাচ্ছে না। সেই কারণেই মাছ সরাসরি নিয়ে আসা হচ্ছে বরিশাল মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে। কারণ বরিশালের আশপাশে গভীর সমুদ্র নেই। এখানে স্থানীয় নদীর মাছ ওঠার কথা বলেই নজরদারিও তুলনায় কম।

এদিকে মোকামের ব্যবসায়ীদের দাবি, চাহিদার তুলনায় বাজারে ইলিশের জোগান এখন অনেকটাই কম। সামনে কোরবানির ঈদ। তার আগে বাজারে ইলিশের টান কাটবে কি না, তা নিয়েই দুশ্চিন্তা বাড়ছে ব্যবসায়ী মহলে।

তবে অনেকের ব্যাখ্যা, ইলিশের চলাচল অনেকটাই নির্ভর করে অমাবস্যা ও জোয়ার-ভাটার তিথির ওপর। সদ্য কেটে যাওয়া অমাবস্যার সময় মাছ গভীর সমুদ্রে নেমে যায়। সেই সময়েই চলছে নিষেধাজ্ঞা। ফলে সাগরের মাছ ধরা পড়ছে না। আবার স্থানীয় নদীর মাছও এখন অনেকটাই সাগরমুখী। তাই বাজারে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তাদের আশা, কোরবানির ঈদের সময় যে অমাবস্যা রয়েছে, তার পরে সমুদ্রের মাছ আবার নদীমুখী হবে। তখন ইলিশের জোগানও বাড়তে পারে।

বাজারে আসা ক্রেতা সিরাজুল ইসলাম বলেন, সাগরে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও বাজারে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে, তবে দাম তুলনামূলক বেশি। চাহিদা থাকায় ক্রেতারা বাধ্য হয়ে বেশি দামে হলেও ইলিশ কিনছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, নজরদারি আরও জোরদার না হলে এভাবে নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ বিক্রি বন্ধ করা কঠিন হবে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, ৫০০ গ্রাম ওজনের ফিশিং বোটের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৪০ হাজার টাকা মণ দরে। একই মাপের স্থানীয় ইলিশের দাম উঠেছে ৫৮-৬০ হাজার টাকা মণ। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মণ দরে।

কয়েকজন জেলে ও ব্যবসায়ী জানান, নিষেধাজ্ঞা থাকলেও জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়েই সমুদ্রে যাচ্ছেন জেলেরা। পরিবারের খরচ ও ঋণের চাপ সামলাতে না পেরে ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরতে হচ্ছে তাদের। তবে তারা আরও জানান, সরকারি নিষেধাজ্ঞার প্রতি তাদের সম্মান রয়েছে। কিন্তু বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা না থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

বরিশাল মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মৎস্য মালিক সমিতির সদস্য সচিব কামাল শিকদার বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের এই পোর্টে চাহিদা অনুযায়ী ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। ভারত সরকার সমুদ্রে যে অবরোধ দিয়েছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশও ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ফলে সাগরের মাছ এখন বাজারে আসছে না। স্থানীয় নদীর যে ইলিশ আসছে, তা দিয়ে বাজারের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। সেই কারণে দামও বেশি। তবে মাঝেমধ্যে কিছুটা ওঠানামা হয়। এখন ভোলা, মেহেন্দিগঞ্জ, চরফ্যাশন, গলাচিপা-সহ বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় মাছ বাজারে আসছে।’

এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘নিষেধজ্ঞার সময়ে সাগর থেকে ইলিশ ধরা দ-নীয় অপরাধ। অসাধু জেলেদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। কয়েকদিন আগেও আমরা ৬০০ কেজি ইলিশ জব্দ করেছি। নিয়মিত নজরদারিও করা হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত