ফ্লোটিলার অধিকারকর্মীদের হেনস্তা

বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতদের তলব

আপডেট : ২২ মে ২০২৬, ০৮:৪০ এএম

ইসরায়েলে আটক গাজা অভিমুখী ত্রাণবহর সুমুদ ফ্লোটিলার ফিলিস্তিনপন্থি অধিকারকর্মীদের সঙ্গে ইসরায়েলের অমানবিক আচরণে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করার পর মুহূর্তেই তা ছড়িয়েছে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, আশদোদ বন্দরে হাত বাঁধা অবস্থায় হাঁটু গেড়ে বসিয়ে রাখা অধিকারকর্মীদের সামনে দাঁড়িয়ে বেন গভির তাদের বিদ্রƒপ করছেন। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি ও কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে। ভিডিওটির শুরুতে দেখা যায়, এক নারী অ্যাক্টিভিস্ট ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বলে চিৎকার করছেন। সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তার মাথা চেপে ধরে মাটিতে ফেলে দেন এবং মন্ত্রী বেন গভিরের হাঁটার পথ থেকে তাকে টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে নেয়।

কয়েক ডজন হাত বাঁধা অ্যাক্টিভিস্ট মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসে থাকা অবস্থায় বেন গভিরকে একটি বড় ইসরায়েলি পতাকা ওড়াতে এবং হিব্রু ভাষায় চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, ইসরায়েলে স্বাগতম! এখানে আমাদের কর্র্তৃত্ব! আরেকটি দৃশ্যে দেখা যায়, লাউডস্পিকারে ইসরায়েলের জাতীয় সংগীত বাজানো হচ্ছে এবং বন্দিরা হাঁটু গেড়ে আছেন। এরপর বেন গভির এক হাত বাঁধা বন্দির দিকে তাকিয়ে ‘ইসরায়েল জাতি দীর্ঘজীবী হোক’ বলে চিৎকার করেন। পেছনে এক নারীর কান্নার আওয়াজ শোনা গেলেও বেন গভির সেখানকার রক্ষীদের উদ্দেশে বলেন, ওদের চিৎকারে কান দেওয়ার দরকার নেই।

বেন গভিরের এই কর্মকাণ্ডের ফলে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কাছ থেকেও বিরল সমালোচনা এসেছে। নেতানিয়াহু বলেন, বেন গভিরের এই আচরণ ইসরায়েলের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডন সারও তার সহকর্মীর (বেন গভিরের) সমালোচনা করেছেন। এক্সে তিনি লেখেন, আপনি জেনেশুনেই আমাদের রাষ্ট্রের ক্ষতি করেছেন- এবং এটিই প্রথমবার নয়। ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি এই কর্মকাণ্ডকে ‘ঘৃণ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেত কুপার দৃশ্যগুলোকে ‘সম্পূর্ণ লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এ বিষয়ে ‘জরুরি ব্যাখ্যা’ তলব করতে তিনি ইসরায়েলি দূতাবাসে সমন পাঠিয়েছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ইসরায়েলের এই আচরণকে ‘জঘন্য’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং বেন গভিরের প্রতি নিন্দা জানিয়ে বলেন, ইসরায়েলি কর্র্তৃপক্ষের এই আচরণ ছিল ‘মর্যাদাহানিকর’। এ ছাড়া ইতালি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম এবং স্পেন বেন গভিরের কর্মকাণ্ডকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছে এবং প্রত্যেকেই তাদের দেশে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতদের তলব করেছে।

গত ১৪ মে তুরস্ক থেকে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র (জিএসএফ) ৫০টিরও বেশি নৌযান যাত্রা শুরু করে। এই ত্রাণবহরে অংশ নেয় ৪০টিরও বেশি দেশের ৪৩০ জন অধিকারকর্মী। গত সোমবার সকালে সাইপ্রাসের পশ্চিমে আন্তর্জাতিক জলসীমায় সশস্ত্র ইসরায়েলি নৌ-কমান্ডোরা এই নৌবহরের পথরোধ শুরু করে। এলাকাটি গাজা উপকূল থেকে প্রায় ২৫০ নটিক্যাল মাইল (৪৬০ কিমি) দূরে অবস্থিত। জিএসএফের আয়োজকরা জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে সবগুলো নৌযান আটক করা হয়। তবে একটি নৌকা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ৮০ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিল। তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবৈধ আগ্রাসনের’ অভিযোগ তুলে জানান, ইসরায়েলি কমান্ডোরা ছয়টি নৌকায় গুলি ছুড়েছে, জলকামান ব্যবহার করেছে এবং একটি নৌযানকে ইচ্ছাকৃতভাবে সজোরে ধাক্কা দিয়েছে। তবে ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো ধরনের প্রাণঘাতী গুলি ব্যবহারের কথা অস্বীকার করেছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে যে, গাজার ওপর আরোপিত ‘বৈধ নৌ-অবরোধ’ লঙ্ঘনের কোনো প্রচেষ্টাই তারা বরদাশত করবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত