অস্ত্র সংকটে পিছু হটলেন ট্রাম্প

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৯ এএম

ইরানে টানা দুই সপ্তাহ হামলা চালানোর পর সামরিক অভিযান জোরদার করার সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই পদক্ষেপের নেপথ্য কারণÑ অস্ত্রের সংকট। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই বিরতির নির্দেশ সাময়িক নাকি দীর্ঘমেয়াদি এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। গত শুক্রবার হোয়াইট হাউজের শীর্ষ উপদেষ্টা এবং মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প তার পরিকল্পনা বদলান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মকর্তারা জানান, এই গোপন বৈঠকে পেন্টাগনের সঙ্কুচিত হতে থাকা প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বিশদ আলোচনা হয়।

কর্মকর্তারা আরও জানান, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন গোপনে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানো সম্ভব হলেও, তা উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের কাছে থাকা প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ বিপজ্জনকভাবে শেষ করে দেবে। তবে জেনারেল কেইনের মুখপাত্র এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। হোয়াইট হাউজের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চেং বলেন, প্রেসিডেন্ট সবসময় কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে হরমুজ প্রণালিতে ইরান যদি তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা মিত্রদের ওপর হামলা অব্যাহত রাখে, তবে তার সামনে সব পথই খোলা রয়েছে। এদিকে ইরানের সেনাবাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি ভূখন্ডে আবারও হামলা শুরু করলে যুদ্ধের পরিধি বাড়বে। দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আর্কেমিনিয়া গতকাল রবিবার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, ওয়াশিংটন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চাইলে নিশ্চিতভাবেই এবার যুদ্ধের ভৌগোলিক সীমানা বিস্তৃত হবে। যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের লক্ষ্য অর্জন ও ইরানকে দুর্বল করার মিশনে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সেনাবাহিনীর আরেক মুখপাত্র জেনারেল আব্দুলফজল শেখারচি।

গত ৮ জুলাই ট্রাম্প ঘোষণা দেন, পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে উল্লিখিত যুদ্ধবিরতি আর কার্যকর নেই। এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। ‘অপারেশন নাসর-২’ নামে পশ্চিম এশিয়ায় থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে ইরান। ১৫ দিনের এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং ২০০ জনের বেশি সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। তবে, যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত আইআরজিসির এসব দাবি নিশ্চিত করেনি এবং এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। গত শনিবার তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে থাকা ১১টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংস করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের হামলায় মোট ১৭টি নজরদারি ও অপারেশনাল ড্রোন ধ্বংস হয়েছে, যার মধ্যে আটটি ছিল আনপ্যাকড ড্রোন।

এ ছাড়া আটটি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকার বিমান, চারটি ভারী সামরিক হেলিকপ্টার, শক্তিশালী হ্যাঙ্গারে থাকা একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, একটি পি-৮ পোসেইডন সামুদ্রিক টহল বিমান, একটি সি-১৭ গ্লোবমাস্টার সামরিক পরিবহন বিমান, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে  লক্ষ্যবস্তু করা হয়। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, হামলায় ধ্বংস হয়েছেÑ সাতটি কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, ছয়টি প্যাট্রিয়ট রাডার ইউনিট, আটটি আগাম সতর্কীকরণ রাডার, সাতটি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র রাডার, পাঁচটি দূরপাল্লার রাডার স্থাপনা, পাঁচটি এফপিএস ও এফপিএস-১১৭ রাডার, তিনটি আকাশ ও সামুদ্রিক নজরদারি রাডার, তিনটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা। মোহেবি যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত হতাহতের তথ্যকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেন। ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের প্রকৃত চিত্র যাচাই করতে ট্রাম্প প্রশাসনকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের জন্য লক্ষ্যবস্তু হওয়া ঘাঁটিগুলো খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত