চামড়া শিল্পসংশ্লিষ্ট সবার প্রতি

আপডেট : ২৩ মে ২০২৬, ০৭:৩৪ এএম

দীর্ঘদিন ধরে চামড়া শিল্প নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে এই শিল্পের সম্ভাবনা, সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আমার কিছু ভাবনা আপনাদের সামনে তুলে ধরছি। বাংলাদেশের চামড়া শিল্পে আমার যাত্রা শুরু হয় এই শিল্পের অন্যতম অগ্রপথিক মরহুম সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী সাহেবের হাত ধরে। ১৯৯০ সালে তার প্রতিষ্ঠান এপেক্স ট্যানারিতে মহাব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে আমি এই শিল্পের বিভিন্ন দিক, বিশেষ করে ট্যানারি কার্যক্রম এবং শিল্পের উন্নয়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করি। পরবর্তীতে বিভিন্ন শিল্প গ্রুপের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি সম্ভাবনা, শিল্প স্থাপন এবং এর বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করার সুযোগ হয়েছে।

তখন থেকেই উপলব্ধি করতে পারি চামড়া শিল্প একটি অপার সম্ভাবনাময় জগৎ। কারণ সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে যে, এটা বাংলাদেশের নিজস্ব কাঁচামাল। বাংলাদেশে যে কয়েকটি কাঁচামাল নিজস্ব তৈরি হয়, তার ভেতরে চামড়া অন্যতম। বহুদিন ধরেই এই শিল্প এবং এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত লাখ লাখ মানুষ, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা সবাই আছেন কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো এই চামড়া শিল্পটা যেভাবে গড়ে তোলার কথা ছিল, যেভাবে এটার উন্নতি হওয়ার কথা ছিল, সেভাবে বিশ্ববাজারে এমন কী আমাদের নিজস্ব বাজারেও উপস্থিতি স্থাপন হয় নাই। যদিও চামড়া শিল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং তাদের সমিতিগুলো রয়েছে। ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন আছে, কাঁচা চামড়া আড়ত সমিতি আছে, ব্যবসায়ী সমিতি আছে, এক্সপোর্টারদের সমিতি আছে কিন্তু সমন্বিতভাবে আমরা চামড়া শিল্পকে তুলে ধরে নীতিনির্ধারকদের কাছ থেকে এই শিল্পের জন্য যে সুবিধাগুলো আদায় করা দরকার বা এই শিল্পকে প্রমোট করার জন্য যে জায়গাটা করা দরকার ছিল, সেটা আমরা এখন পর্যন্ত খুব বেশি কিছু করতে পারি নাই।

দীর্ঘ করপোরেট জীবনে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। পাশাপাশি দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী, ব্যাংকার, আমলা ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। এই অভিজ্ঞতা থেকে আমি উপলব্ধি করেছি যে, আমরা এখনো বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করি। ফলে যৌথ দাবি ও প্রয়োজনগুলো নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যথাযথ গুরুত্ব পায় না। পোশাক ও বস্ত্র শিল্প এই ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে। তারা সংগঠিতভাবে কাজ করে এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় নীতিনির্ধারকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সুবিধা আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে তারা দেশের প্রধান রপ্তানি খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

আমরা সবাই জানি যে, বাংলাদেশ এখনও মধ্যম আয়ের দেশে পূর্ণাঙ্গভাবে উন্নীত হতে পারেনি এবং এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনও বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে। স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে আমরা এতদিন যেসব আন্তর্জাতিক সুবিধা পেয়ে আসছিলাম, ভবিষ্যতে সেগুলো কতটা থাকবে বা করণীয় কী, তা নিয়ে এখন পর্যন্ত সুচিন্তিত কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি। মূলত অ্যাডহক ভিত্তিতে বা স্বল্প মেয়াদে কিছু কাজ করেছি, কিন্তু এর বাইরে বড় কোনো লক্ষ্য নিয়ে এগোতে পারিনি। বর্তমানে পোশাক ও বস্ত্র শিল্প বাংলাদেশে একটি বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে এবং তারা দেশের শীর্ষস্থানীয় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত। মূলত দুটি উৎস থেকে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয় এক. পণ্য রপ্তানি, দুই. প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ (রেমিট্যান্স)। এই দুটি খাতই আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং মাথাপিছু আয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখছে। তবে পোশাক শিল্পের ক্ষেত্রে যদি ‘ভ্যালু অ্যাডিশন’ বা মূল্য সংযোজনের দিকে তাকাই, তবে দেখব যে তাদের তুলাসহ মৌলিক কাঁচামালের প্রায় পুরোটাই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। অন্যদিকে, চামড়া আমাদের নিজস্ব কাঁচামাল। চা, পাট, কৃষিপণ্য ও মৎস্যসম্পদের মতো এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। তবুও আমরা এই সম্পদের যথাযথ মূল্য সংযোজন করতে পারিনি।

চামড়ার গুণগত মান ও পরিবেশবান্ধব প্রচারণার প্রয়োজনীয়তা : বাংলাদেশের চামড়া শিল্প একটি অপার সম্ভাবনাময় খাত। শুধু রপ্তানির কথা চিন্তা না করে দেশীয় বাজারের দিকেও যদি লক্ষ্য করি, তবে দেখব যে, এখানেও এক বিশাল চাহিদা ও সম্ভাবনা রয়ে গেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, চামড়া নিয়ে আমরা আজও সঠিক ও কার্যকর কোনো প্রচারণা শুরু করতে পারিনি। বর্তমানে আমরা যারা এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত, তারা দেশীয় বা আন্তর্জাতিক উভয় বাজারেই অত্যন্ত গতানুগতিক পদ্ধতিতে চামড়ার জুতা বা পণ্য তৈরি ও বাজারজাত করছি।

এখন পর্যন্ত চামড়ার মূল বিশেষত্বটি মানুষের কাছে তুলে ধরতে পারিনি। চামড়া শুধু একটি কাঁচামাল নয়, এটি একটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও পরিবেশবান্ধব উপাদান। এটি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য যেমন নিরাপদ, পরিবেশের জন্যও তেমনি উপকারী। চামড়া ‘বায়ো-ডিগ্রেডেবল’, অর্থাৎ এটি প্রাকৃতিকভাবেই মাটিতে মিশে যায়। এ ছাড়া চামড়া ‘ব্রিদাবল’ (ইৎবধঃযধনষব) উপাদান হওয়ার কারণে এর তৈরি জুতা বা পণ্য ব্যবহার করা আরামদায়ক ও স্বাস্থ্যসম্মত।

সঠিকভাবে ট্যানিং ও ফিনিশিং করা চামড়ার পণ্য যেকোনো কৃত্রিম বা সিনথেটিক জিনিসের তুলনায় অনেক বেশি টেকসই, দীর্ঘস্থায়ী এবং পরিবেশবান্ধব। নন লেদার পণ্যের ভিড়ে চামড়ার এই শ্রেষ্ঠত্ব ও গুণাগুণ নিয়ে সম্মিলিতভাবে জোরালো কোনো প্রচারণা চালানোর সময় এখনই।

দেশে আমদানি করা নিম্নমানের নন-লেদার পণ্য পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর যে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে কথা বলার সময় এসেছে। বিশেষ করে শিশুদের জুতার ও স্কুল ব্যাগের কথাই যদি ধরি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব নন-লেদার উপাদানে থাকা ‘মাইক্রো-প্লাস্টিক’ ও ক্ষতিকর রাসায়নিক শিশুদের শরীরে প্রবেশ করছে। এমনকি আমাদের খাদ্যচক্র ও মাটিতেও এসব উপাদান মিশে গিয়ে ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগের ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশ্বব্যাপী এখন প্লাস্টিক ও নন-লেদার উপাদানের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে, আর মানুষ আবারও প্রাকৃতিক ও নিরাপদ চামড়ার পণ্যের দিকে ঝুঁকছে।

দেশি ও বিদেশি ক্রেতাদের আমাদের এই বার্তাটি দিতে হবে যে, প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি চামড়ার কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। আমরা যদি ক্ষতিকর নন-লেদার পণ্যের আমদানির ওপর উচ্চহারে কর বা ট্যারিফ আরোপ করতে পারি, তবে আমাদের দেশীয় চামড়া শিল্প এক বিশাল সুরক্ষা পাবে। এতে করে শুধু রপ্তানি নয়, স্থানীয় বাজারেও আমরা আমাদের নিজস্ব চামড়াজাত পণ্য জনপ্রিয় করতে পারব।

চামড়ার জুতা বা পণ্য ব্যবহার করা মানে শুধু স্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষা নয়, এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয়ও বটে। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, যেখানে আমরা বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে নন-লেদার কাঁচামাল আমদানি করি, সেখানে আমাদের নিজেদের চামড়া কোরবানির সময় পানির দামে বিক্রি হয় বা অবহেলায় মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়। প্রান্তিক ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা আজ কোনো সুরক্ষা পাচ্ছেন না। নিম্নমানের নন-লেদার পণ্য পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এসব পণ্যের ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। এই প্রেক্ষাপটে, চামড়াজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো শুধু অর্থনৈতিক নয়, স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।

নীতিমালা ও অবকাঠামোগত সংস্কারের দাবি : আমার মনে হয় এখনই সময় বাংলাদেশের চামড়া শিল্প রক্ষায় একটি সমন্বিত ও ঐক্যবদ্ধ ক্যাম্পেইন (প্রচারণা) শুরু করার। আমাদের যেমন জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে, তেমনি নীতিনির্ধারকদের কাছেও জোরালোভাবে আমাদের দাবিগুলো তুলে ধরতে হবে। আমরা ট্যানারি শিল্পকে হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তর করেছি ঠিকই, কিন্তু কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার বা সিইটিপি এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি, যা বর্তমানে আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা। এই সংকট নিরসনে দ্রুত বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

চামড়া শিল্পের উন্নয়নে জরুরি ভিত্তিতে কিছু পদক্ষেপ প্রয়োজন

একটি স্বতন্ত্র জাতীয় চামড়া বোর্ড গঠন করা, আন্তর্জাতিক মান (খডএ) অর্জনে সহায়তা। কার্যকর সিইটিপি চালু করা। আধুনিক ‘চামড়া নগরী’ গড়ে তোলা। শুধু ট্যানারি নয়। অন্য চামড়াজাত পণ্যের শিল্প/কারখানার স্থান করে দেওয়া। সহজ শর্তে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নিশ্চিত করা। ব্যবসাবান্ধব ব্যাংক নীতি প্রণোয়ন। সিঙ্গেল ডিজিট ও সহজ-সরল সুদ চালু করা। চক্রবৃদ্ধি সুদ অবলোপন। দীর্ঘমেয়াদি কিস্তি প্রতিষ্ঠানের আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ। দেশীয় কাঁচামাল তৈরি ৪০ শতাংশের ওপর মূল্য সংযোজনকারী পণ্যে বিশেষ প্রণোদনা। পাশর্^বর্র্তী ও অন্যান্য রপ্তানিকারক দেশের শিল্পের সুরক্ষার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রণোদনা, ভর্তুকি নীতি প্রণয়ন, যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে আমরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারি।

আমাদের নিজস্ব সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকলেও পোশাক শিল্পের পরই ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করে চামড়া শিল্প দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। আমরা যদি এলডব্লিউজি সার্টিফিকেশন নিশ্চিত করতে পারি এবং সঠিক সরকারি সহায়তা পাই, তবে ২০৩০ সালের মধ্যে এই রপ্তানিকে ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব। চামড়া আমাদের নিজস্ব কাঁচামাল এবং জাতীয় সম্পদ; এর সঠিক ব্যবহারে আমরা স্বাবলম্বী হতে পারব এবং আমাদের অন্য কারও মুখাপেক্ষী হতে হবে না। ব্যবসাবান্ধব ব্যাংকিং নীতি, ব্যবসা সহজীকরণ, সিঙ্গেল ডিজিট সুদ, চক্রবৃদ্ধিহারে সুদের সহজভিত্তিসহ সহজ সরল নীতি প্রণোয়ন।

সংশ্লিষ্ট সব সংগঠনের প্রতি আকুল আবেদন : চামড়া খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আমার আকুল আবেদন আসুন আমরা একটি সাধারণ প্ল্যাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ হই। হাইড অ্যান্ড মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন, ফিনিশড লেদার অ্যান্ড গুডস অ্যাসোসিয়েশন, ফুটওয়্যার লেদারগুডস অ্যান্ড এক্সেসরিজ এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনসহ ফুটওয়্যার খাতের সঙ্গে জড়িত আমরা সবাই মিলে যদি একটি সম্মিলিত কণ্ঠস্বর তৈরি করতে পারি, তবেই আমাদের দাবিগুলো জোরালো হবে।

আমাদের উচিত ঐক্যবদ্ধভাবে সরকার, নীতিনির্ধারক এবং গণমাধ্যমের কাছে যাওয়া। একদিকে যেমন আমাদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করতে হবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আমাদের দেশীয় বাজার থেকে ক্ষতিকর ও নিম্নমানের ‘নন-লেদার’ পণ্যের বিকল্প হিসেবে সেখানে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই চামড়ার পণ্যের আধিপত্য নিশ্চিত করতে পারি।

এতে আমরা যেমন বাণিজ্যিকভাবে সফল হব, তেমনি বাংলাদেশের চামড়া শিল্প বিশ্ব দরবারে নিজের অবস্থান সুসংহত করতে পারবে। আসুন, পরিবেশ ও দেশীয় সম্পদের স্বার্থে আমরা চামড়া ব্যবহারের সংস্কৃতিকে আরও বেগবান করি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও গ্র্যান্ড কনভেনশনের আহ্বান : আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে একটি গ্র্যান্ড কনভেনশনের আয়োজন করতে পারি। শিগগিরই সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করব। আমার বিশ্বাস, আমরা সবাই যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে এক জায়গায় আসি এবং একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম তৈরি করি, তবে সরকারের কাছে আমাদের দাবিগুলো সম্মিলিতভাবে একটি ‘স্মারকলিপি’ বা মেমোরেন্ডামের মাধ্যমে পেশ করা সম্ভব হবে। অর্থ, বাণিজ্য, শিল্প মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য সংস্থাগুলোর কাছে সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরতে পারব। সর্বশেষে জাতীয় অর্থনীতিতে চামড়া খাতের গুরুত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরতে পারব। আমার বিশ^াস, তিনি আমাদের নিরাশ করবেন না।

বর্তমানে জনপ্রিয় সরকার এরই মধ্যে দেশে শিল্প খাতের বিকাশ, নতুন কর্মসংস্থান, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, এমনকি বন্ধ কলকারখানাগুলো পুনরায় চালুর প্রস্তাব করেছেন। সরকারের এই উদ্যোগকে, খাতসংশ্লিষ্ট সবার পক্ষ থেকে সাধুবাদ জানাই ও সেই সঙ্গে চামড়া শিল্পের গুরুত্ব অনুধাবন করে এই শিল্পকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সাহায্য করার আহ্বান করছি।

আসুন, আমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথাগুলো একীভূত করে একটি সমন্বিত দাবিমালা তৈরি করি। চামড়া শিল্প শুধু দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতই নয়, এটি আমাদের জাতীয় সম্পদ। স্থানীয় বাজারে এর বাণিজ্যিক প্রসার এবং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের চামড়াশিল্পকে সগৌরবে উপস্থাপনের লক্ষ্যে চলুন আমরা সবাই মিলে নিরলসভাবে কাজ করি। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে এই শিল্পকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত