আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ

আপডেট : ২৩ মে ২০২৬, ০১:২০ পিএম

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ব্যক্তি মালিকানা সম্পত্তির উপর দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মাওয়ায় কুমারভোগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ পাওয়া যায়। তবে তথ্য গোপন করে আদালতে মামলার পাল্টাপাল্টি অভিযোগও উঠে এসেছে। 

এদিকে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন আদালতের নিকট যে তথ্য দিয়েই মামলা করুক না কেন আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার ক্ষমতা কারোর নেই। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা দণ্ডনীয় অপরাধ।

মামলার বাদী খাইরুল ইসলাম রয়েল অভিযোগ দিয়ে বলেন, উত্তর কুমারভোগ মৌজায় ১০৪১ দাগের ৬৫ খতিয়ানে ২৫ শতাংশ জমিটি আমার দাদা আজহার মাঝির মালিকানাধীন রয়েছে। কিন্তু কুমারভোগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন যাবত এ জমিটি জোরপূর্বক দখল করে ভবন নির্মাণ করেছে। এ বিষয়ে আমরা ২০১৬ সালে আদালতে মামলা দায়ের করি। সে মামলায় ২০১৮ সালে আদালত আমাদের পক্ষে রায় দেন। এর এক বছর পরে ২০১৯ সালে স্কুল কর্তৃপক্ষ আদালতে আপিল করেন। সে মামলা এখনও চলমান রয়েছে।

তিনি আরও জানান, গত ২২ এপ্রিল হঠাৎ চোখে পড়ে মামলা চলাকালীন অবস্থায় দেয়াল নির্মাণের কাজ করছে। পরে ২৬ এপ্রিল আদালতে কাজ বন্ধ চেয়ে মামলা দায়ের করি। পরে চলতি মাসের ১৩ মে আদালত নির্দেশ প্রদান করে ওই সম্পত্তির দখল সংক্রান্ত বিষয়সহ কোন কনস্ট্রাকশন কাজ করিতে না পরে বা কোন আকার ও প্রকার পরিবর্তন করিত না পারে। বিজ্ঞ জেজ আদালতের মুন্সীগঞ্জ সিভিল জজ তানিয়া সুলতানা এ নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন।

আরেক অভিযোগকারী আরাফাত বলেন, আদালত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন অথচ সরকারি লোকজন আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করছে। এর বিচার তাহলেকে করবেন। সরকারিই যদি সরকারের আইন না মেনে চলে তাহলে সাধারণ জণগণ কি করবে। আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি আমাদের নিকট ফিরিয়ে দেয়ার অনুরোধ করছি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা চায়না আক্তার জানান, খাইরুল ইসলাম রয়েল নামক এক ব্যক্তি স্কুলের দানকৃত জমি তাদের দাবি করে কোর্টে মামলা করেন। তথ্য গোপন রেখে মামলা করেছেন তারা। দেখিয়েছেন এটি বসতবাড়ি স্কুলে দানকৃত বা বর্তমানে স্কুলে এ জমির মালিক দখলে রয়েছে এগুলো কিছুই উল্লেখ করেননি। আদালত তাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। আমরা আদালতে আপিল করেছি। আশা করছি এবার স্কুলের পক্ষে আদালত রায় দিবেন।

তিনি আরও জানান, আমাদের বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে অর্থাৎ প্রধান গেইট ও সড়কের সাথে ভবন হওয়ায় শিক্ষার্থীদের দুর্ঘটনারোধে সরকারের নিকট বিদ্যালয় ও সড়ক ঘিরে দেয়াল নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। সে প্রেক্ষাপটে সরকারিভাবে বরাদ্দ আসে এবং দেয়াল নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. রেজাউল ইসলাম জানান, সরকারিভাবে উন্নয়নমূলক কাজের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা কাজ করছি। কোর্টের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আমার জানা নেই। বরাদ্দ আসছে আমরা ঠিকাদারকে কাজ দিয়েছি তারা কাজ করছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. এনায়েতুর রহমান জানান, মন্ত্রনালয় থেকে বিদ্যালয়ের উন্নয়নের কাজের জন্য বরাদ্দ আসছে। সরকারী অর্থায়নে কাজ হচ্ছে। এখানে আমার বলার কিছু নেই। তিনি আরও জানান, আদালতের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আবার সরকারিভাবেই উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে। তাদের দাবিকৃত জমি যদি হয়ে থাকে তাহলে আদালত বুঝবেন। আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। দেখা যাক আদালত কি নির্দেশনা দেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববী মিতু জানান, সরকারি বরাদ্দে কাজ হচ্ছে। জমি দাবিকৃত ব্যক্তিরা আদালতের দারস্থ হয়েছেন। আদালত যদি এ জমি তাদের বুঝিয়ে দিতে বলে আমরা তাদের জমি বুঝিয়ে দিবো

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত