মধ্যপ্রাচ্যের দুই পরাশক্তির নতুন ইতিহাস গড়ার যুদ্ধ

আপডেট : ২৫ মে ২০২৬, ০১:৩১ এএম

বিশ্বকাপের আঙিনায় যখন কথা হয় মধ্যপ্রাচ্যের ফুটবল নিয়ে, তখন ইরান ও ইরাক এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের নাম ফুটবলপ্রেমীদের মনে আলাদা এক রোমাঞ্চ তৈরি করে। মাঠের ভেতরে ও বাইরে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এই দুই পরাশক্তি এবার উত্তর আমেরিকার মাটিতে পা রাখছে সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি লক্ষ্য নিয়ে। একদিকে ইরান যেখানে তাদের টানা চতুর্থ বিশ্বকাপে এসে গ্রুপ পর্বের ডেডলক ভাঙতে মরিয়া, অন্যদিকে ইরাক দীর্ঘ ৪০ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে ফিরছে বিশ্বমঞ্চের আলোয়।

এশিয়ান ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল ইরান (টিম মেল্লি)। ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ উজবেকিস্তানের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে এশিয়ান অঞ্চল থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট কাটে তারা। এটি তাদের ইতিহাসে সর্বমোট সপ্তম এবং টানা চতুর্থ বিশ্বকাপ। এশিয়ায় তারা অপ্রতিরোধ্য হলেও বৈশ্বিক মঞ্চে ইরানের গল্পটা কেবলই গ্রুপ পর্বের ট্র্যাজেডি। এর আগে ৬ বার অংশ নিলেও কখনোই গ্রুপ পর্বের গণ্ডি পার হতে পারেনি তারা। ১৯৯৮ সালে আমেরিকার বিপক্ষে ২-১ বা ২০২২-এ ওয়েলসকে ২-০ গোলে হারানোই তাদের ইতিহাসের সেরা মুহূর্ত। কোচ আমির ঘালেনোইর অধীনে তারেমি-আজমুনরা এবার সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে আমেরিকার মাটিতে নতুন ইতিহাস লিখতে চান।

অন্যদিকে, এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় রূপকথা লিখেছে ইরাক। দীর্ঘ ৪০ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ১৯৮৬ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে লায়নস অব মেসোপটেমিয়া। ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্লে-অফ ফাইনালে বলিভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ দল হিসেবে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয় তারা। কোচ গ্রাহাম আর্নল্ডের অধীনে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির ফুটবলাররা এবার বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিতে মুখিয়ে আছেন।

কোচের কৌশলের লড়াই : ২০২৩ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর আমির ঘালেনোই ইরান দলকে খেলোচ্ছেন আক্রমণাত্মক ও শারীরিক ফুটবল। ইউরোপিয়ান লিগে খেলা তারকাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাই তার মূল কৌশল।

অন্যদিকে, ইরাকের কোচ গ্রাহাম আর্নল্ডের মূল অস্ত্র নিখুঁত ট্যাকটিক্যাল ডিসিপ্লিন এবং ইস্পাতকঠিন রক্ষণভাগ। প্রতিপক্ষকে কাউন্টার অ্যাটাকে ঘায়েল করার জন্য তিনি এক লড়াকু ইরাক দল গড়ে তুলেছেন।

মূল ভরসা তারেমি, জাহানবখশ ও আমেন হুসেইন : ইরানের আক্রমণভাগের মূল চালিকাশক্তি অলিম্পিয়াকোসের অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড মেহেদি তারেমি, যিনি বাছাইপর্বে সর্বোচ্চ ১০টি গোল করে দলের প্রধান ট্রাম্পকার্ড। আজমুনের অনুপস্থিতিতে আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দেওয়ার মূল দায়িত্ব থাকবে তার কাঁধেই। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেবেন ডেনডারের অভিজ্ঞ উইঙ্গার আলিরেজা জাহানবখশ এবং আক্রমণভাগের তরুণ তুর্কিরা।

অন্যদিকে, ইরাকের মূল ভরসা তাদের অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার এবং অন-ফিল্ড লিডার আমেন হুসেইন। রক্ষণভাগে দলের দেয়াল হয়ে থাকবেন তরুণ ডিফেন্ডার রেবিন সুলাকা, যিনি প্লে-অফে দলকে টেনে তুলেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত